সময়ের চিত্র ডেস্ক:
ইরানের জলসীমায় একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলার অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। এ ঘটনায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, মিনাব ও হরমুজগান প্রদেশের সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এসব এলাকার কিছু স্থানে সামরিক তৎপরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের সহযোগিতায় ইরানের কিছু বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে কেশম দ্বীপের একটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এর জবাবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল, অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন ব্যবহার করে অভিযান চালিয়েছে। ইরানের দাবি, এ হামলায় মার্কিন পক্ষের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের হামলার চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে এবং আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, মার্কিন কোনো যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক সম্পদের ক্ষতি হয়নি।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানে চালানো হামলাকে ‘লাভ ট্যাপ’ বা সীমিত প্রতিক্রিয়া বলে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বন্দর ও জাহাজ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ির পর এটিই তেহরানের প্রথম বড় ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়া। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।