জুলাইয়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিতের নির্দেশ, ব্যর্থ হলে শিক্ষকদের বেতন বন্ধের সতর্কতা
সময়ের চিত্র ডেস্ক:
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি সাবলীলভাবে পড়তে সক্ষম করতে হবে। পাশাপাশি গণিতের মৌলিক চারটি বিষয়—যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগেও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের এসব দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি বেতন স্থগিত করার কথাও জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় এ নির্দেশনা দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরে জেলা পর্যায় থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হার সন্তোষজনক হলেও শিক্ষার্থীদের বড় অংশ মৌলিক দক্ষতায় পিছিয়ে রয়েছে। বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট মহল।
এ বিষয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সমস্যাগুলোর দৃশ্যমান সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা, শিক্ষকতার মান ও মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজধানীর বনানীতে ইউনিসেফ আয়োজিত একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে উপস্থাপিত গবেষণায় উঠে আসে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া অনেক শিক্ষার্থীই পঞ্চম শ্রেণির মৌলিক দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে গণিতে দুর্বলতার চিত্র সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক।
২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় দেশের ১৪২টি বিদ্যালয়ের ১৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং ৮০০-এর বেশি শিক্ষক অংশ নেন। গবেষণাটি পরিচালনায় যুক্ত ছিল ইউনিসেফ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবিসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, অধিকাংশ শিক্ষক পাঠ্যসূচি শেষ করার চাপের কারণে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না। এছাড়া শিক্ষণ উপকরণ ব্যবহারে সময় সংকট ও ঘন ঘন পাঠ্যক্রম পরিবর্তনও শিক্ষার মানোন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে বলে মত দিয়েছেন অনেক শিক্ষক।