উপসাগরীয় তিন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা

সময়ের চিত্র ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের সামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে বুধবার (১৫ জুলাই) উপসাগরীয় অঞ্চলের তিনটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।

একই সঙ্গে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ও অবরোধ অব্যাহত থাকলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যে ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির তেল ও গ্যাস রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তারা মিত্র দেশগুলোর জ্বালানি সরবরাহেও বাধা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, এই অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানির পথ হয় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, না হলে কারও জন্যই নয়।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ফলে গত মাসে ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা কার্যত ভেঙে গেছে।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ইরানের উপকূলসংলগ্ন একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম বন্দর আব্বাস, কিশ দ্বীপ ও বন্দর ইমাম খোমেনি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছে।

মার্কিন হামলার পর বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। কুয়েত ও জর্ডান জানিয়েছে, তারা নিজেদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলো সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান আলোচনায় না এলে আগামী দিনগুলোতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে।

এদিকে সেন্টকমের দাবি, গত সপ্তাহে ইরানের হামলায় কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে ইরানের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় দেশটিতে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ইসরাইলের ওপর যেকোনো হামলার জবাব শক্ত হাতে দেওয়া হবে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

এই বিভাগের আরো খবর