সময়ের চিত্র রিপোর্ট:
বৈধ পারমিট থাকার পরও ১০ হাজার কেজির বেশি ইলিশ মাছ বেআইনিভাবে জব্দ এবং পরবর্তীতে আদালতের আদেশ ছাড়াই তা গায়েব করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সাথে পুরো ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে একজন অতিরিক্ত জেলা জজের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (২২ জুন) মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও মাননীয় বিচারপতি মো: জিয়াউল হক সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আজ আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া ও তাকে সহযোগিতা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো: মনিরুল ইসলাম মিয়া, রোকনুজ্জামান, মোরশেদুল ইসলাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সংশ্লিষ্ট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো: ফারুক হোসেন
আদালত এই মামলায় পক্ষভুক্ত বিবাদীস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক -এর প্রতি এই নির্দেশনা জারি করেছেন। কেন এই বেআইনি ও অননুমোদিত ইলিশ জব্দ এবং জব্দ তালিকা ছাড়া তা নিষ্পত্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা বিবাদীগণকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটি ইলিশ মাছের এই বিশাল চালান জব্দের পর আইনানুগ প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে যেভাবে তা আত্মসাৎ বা নিষ্পত্তি করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করবে। তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদনটি সিলগালা অবস্থায় আদালতে সাবমিট (দাখিল) করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১২ মে, ২০২৬ তারিখে আবেদনকারীদের (Petitioners) বৈধ পরিবহন পারমিট থাকা সত্ত্বেও ১০,১৪০ কেজি ইলিশ মাছ বেআইনিভাবে জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৪ লাখ ২ হাজার ৭৮৪ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, কোস্ট গার্ড বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক জব্দ তালিকা (Seizure List) বা বিচারিক আদেশ ছাড়াই পরবর্তীতে এই মাছের চালানটি গায়েব বা নিষ্পত্তি করা হয়।
বিবাদীদের এমন আইনবহির্ভূত ও স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপের কারণে আবেদনকারীরা চরম আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়েছেন উল্লেখ করে আদালতে এই রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। রিটে ইলিশ মাছের মূল্যের পাশাপাশি ২০ শতাংশ সুদসহ সর্বমোট ১ কোটি ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ের আর্জি জানানো হয়েছে।
আদালত রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারিসহ এই বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দেন।