৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী:

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ—সংগ্রাম, ঐতিহ্য ও আগামীর অঙ্গীকার

মিজানুর হক খান

 

“মুজিব মানে আর কিছু না
মুজিব মানে মুক্তি;
পিতার সাথে সন্তানের ঐ
না-লেখা প্রেম চুক্তি।”
(“মুজিব মানে মুক্তি”, কবি নির্মলেন্দু গুন)

 

২৩ জুন। বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৪৯ সালের এই দিনে রাজধানীর রোজ গার্ডেনে জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে এই দলটি কেবল একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবেই নয়, বরং বাঙালির মুক্তি, স্বাধীনতা এবং আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল কারিগর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আজ যখন আমরা দলটির ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছি, তখন সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান সংকটাপন্ন পরিস্থিতির দিকে তাকানো অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পথচলার মূলভিত্তি হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন। তাঁর সেই কালজয়ী আদর্শকে ধারণ করেই গণমানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে দলটি নিরলস কাজ করে গেছে। একই সাথে, গত দেড় দশকে বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের এক অভূতপূর্ব শিখরে আরোহণ করেছে। উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে তাঁর যে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম, তা আজ কেবল একটি দলের রাজনৈতিক দর্শন নয়, বরং আধুনিক ও সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত।

ইতিহাসের স্বর্ণালী পথচলা

১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগের পর যখন বাঙালি জাতি নতুন করে বঞ্চনার শিকার হচ্ছিল, তখন শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল তৎকালীন ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক এবং তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে যে যাত্রার সূচনা হয়েছিল, তা কালক্রমে রূপান্তরিত হয় অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনার বাতিঘরে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এই দলটিই বাঙালি জাতিকে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু কেবল একটি স্বাধীন রাষ্ট্রই উপহার দেননি, তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি শোষণমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। পঁচাত্তরের কালরাতে তাকে সপরিবারে হত্যার পর চরম দুঃসময়ে দলের হাল ধরেছিলেন বর্তমান প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস ও বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের এক রোল মডেলে পরিণত হয়েছিল।

বর্তমান সংকট ও রাজনৈতিক পটভূমি: আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করার পরিণতি

তবে আজ ইতিহাস যখন বাঁক নিয়েছে, তখন বাংলাদেশ এক চরম দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে দেশী ও বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ আজ এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আজ আওয়ামী লীগ কেবল ক্ষমতার বাইরেই নয়, বরং দলটি সরকারি আদেশে নিষিদ্ধ এবং এর অগণিত নেতাকর্মী রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার।

বর্তমানে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান, তা যেন চরম প্রতিহিংসার প্রতিচ্ছবি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে, বিরোধী মত দমনে যে নতুন ধারার রাজনীতি শুরু হয়েছে, তা দেশের গণতন্ত্রকে আজ খাদের কিনারে নিয়ে ঠেকিয়েছে। সাধারণ মানুষ আজ এক ভয়ের রাজত্বে বাস করছে। আইনের শাসন যেন কেবল নামেই অবশিষ্ট আছে, বাস্তবে তা ক্ষমতাশীলদের ইশারায় চলছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে সুদূরপ্রসারী হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে, যা ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে কেবল ত্রুটিপূর্ণই নয়, বরং একটি অগ্রহণযোগ্য এবং অ-অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রহসনে পরিণত করেছে। অবৈধ ইউনুস সরকারের এই সিদ্ধান্ত, যা বর্তমানে বি.এন.পিও অনুসরণ করে চলছে, সম্পূর্ণভাবে অসাংবিধানিক এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পরিপন্থী। একটি বড় রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা সরাসরি জনগণের ভোটাধিকার এবং রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করার শামিল, যা আধুনিক গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী। এই একপাক্ষিক ও দমনমূলক পদক্ষেপটি মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার (UDHR) ধারা ২০ এবং ধারা ২১-এর সরাসরি লঙ্ঘন, যা প্রতিটি নাগরিকের শান্তিপূর্ণভাবে সভা ও সমিতির স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণের অধিকারকে নিশ্চিত করে। একইভাবে, এটি ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস (ICCPR)-এর অনুচ্ছেদ ২৫-এর সুস্পষ্ট বরখেলাপ, যা কোনো অযৌক্তিক বিধিনিষেধ ছাড়া রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে বাধ্যবাধকতা দেয়। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের এই চরম অগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক পরিস্থিতিকে স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থতা বা তাদের নিষ্ক্রিয়তা হতাশাজনক। তাদের এই নীরবতা কেবল মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনকেই বৈধতা দিচ্ছে না, বরং বাংলাদেশে একটি একপাক্ষিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশটিকে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্রের মানদণ্ড থেকে বিচ্যুত করে একনায়কতন্ত্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর যে ভয়াবহ দমন-পীড়ন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে, তা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির এক অন্ধকার দিক উন্মোচন করেছে। বিভিন্ন তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে অন্তত ৫৭ জন আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মী বিচারিক হেফাজতে থাকা অবস্থায় অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন (এর মধ্যে ৫০ জন ইউনুস আমলে ও ৭ জন বর্তমান বি.এন.পি আমলে), যা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও জীবনের অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। কেবল রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হেফাজতেই নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনুসারী ‘মব’ বা উত্তেজিত জনতার হাতেও আওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর নৃশংস নির্যাতন, হামলা এবং হত্যাকাণ্ডের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

দুই অবৈধ সরকারের আমলে বাংলাদেশের শিশুদের অবস্থা

বাংলাদেশে শিশুদের বর্তমান পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক এবং একটি শিশু-কেন্দ্রিক জাতীয় নীতির অভাব তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অবৈধ ইউনুস সরকার ও তারই ধারাবাহিকতায় অধিষ্ঠিত বি.এন.পি-জামাতের ভাগাভাগির সরকার নিজেদের আখের গুছিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের ভবিষ্যত্‌ নাগরিক শিশুদের জন্য যেমন নতুন নীতিও গ্রহন করেনি, তেমনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিশু নীতি ও শিশু স্বাস্থ্যনীতি অনুসরণ করেনি। সঠিক স্বাস্থ্যনীতির অভাবে দেশজুড়ে হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ছয় শতাধিক শিশুর অকাল মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়।

একই সাথে, দেশে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা মহামারি আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত অধিকাংশেরই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে—বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি সংশ্লিষ্ট মহলের সাথে—যা অপরাধীদের মধ্যে এক ধরনের ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ বা ইমপিউনিটি তৈরি করেছে। তারা বিশ্বাস করে যে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ছত্রছায়ায় তারা সহজেই পার পেয়ে যাবে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়; আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে শিশুদের গ্রেপ্তার করার মতো উদ্বেগজনক ঘটনাও ঘটছে। এই শিশু ও কিশোরদের জামিন না পাওয়ার কারণে তাদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, বর্তমান সরকার স্কুল পাঠ্যপুস্তক থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অবদান মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বই থেকে ‘রাজাকার’, ‘আল-বদর’ ও ‘আল-শামস’-এর মতো ঐতিহাসিক শব্দগুলো সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর মতো যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা ইউরোপের পাঠ্যবইয়ে নাৎসি বাহিনীর অপরাধ আড়াল করার প্রচেষ্টার সমতুল্য। আন্তর্জাতিক আইন ও ইউনেস্কোর শিক্ষা বিষয়ক নীতিমালা অনুযায়ী, সত্য ইতিহাস বিকৃতি এবং ইতিহাসের দায়মুক্তি প্রদান একটি মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন, কারণ এটি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে এবং সমাজে ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতা ছড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।

বর্তমান সরকারের আমলে মানবাধিকার ও দমন-পীড়ন: আর্ন্তজাতিক সংস্থাগুলোর প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা

বর্তমান সরকারের অধীনে দেশে যে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের চিত্র ফুটে উঠছে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভাবিয়ে তুলছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপর যে ধারাবাহিক দমন-পীড়ন চলছে, তা নজিরবিহীন। গত জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছে, তা নাগরিক অধিকারকে সংকুচিত করেছে।

গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে। বিরোধী দলের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। দেশের সংবিধান ও নির্বাচনী সংস্কারের নামে যে ‘জুলাই চার্টার’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তা আদতে জনগণের ভোটাধিকার হরণের একটি নতুন কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। সাধারণ মানুষ আজ কর্মসংস্থানহীনতা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির যাঁতাকলে পিষ্ট, অথচ সরকার ব্যস্ত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এই ধরণের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয়ে রহস্যজনক নীরবতা বা ধীরগতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। যখন রাষ্ট্রীয় মদদে বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় দলমত নির্বিশেষে নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, তখন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এই নীরবতা তাদের নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল যে, তারা কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের দিকে তাকিয়ে না থেকে, প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে জোরালো ও নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা

এই সংকটময় মুহূর্তে প্রবাসে বসবাসরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের দায়িত্ব অনেক বেশি। দেশের এই চরম দুর্দিনে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বনেতাদের কাছে বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বর্তমান সরকার যেভাবে গণতন্ত্রের নামে স্বৈরাচারী কায়দায় দমন-পীড়ন চালাচ্ছে, তার প্রতিটি তথ্য ও প্রমাণ আমাদের বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে হবে।

প্রবাসের প্ল্যাটফর্মগুলোকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সোচ্চার হতে হবে—যাতে বিশ্ব সম্প্রদায় বুঝতে পারে, বাংলাদেশে আজ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত। আমাদের কাজ হবে প্রতিটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপ সৃষ্টি করা। বঙ্গবন্ধু যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।

আগামীর পথচলা

২৩ জুনের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের জন্য কেবল উৎসবের নয়, বরং শপথ নেওয়ার দিন। যে আদর্শ ও ত্যাগের বিনিময়ে এই দল আজ এই উচ্চতায় এসেছে, তা আমরা কোনোভাবেই মুছে যেতে দিতে পারি না। ষড়যন্ত্রকারীরা হয়তো সাময়িকভাবে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে আমাদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে চাইতে পারে, কিন্তু সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠ রাজনীতির মৃত্যু নেই।

আমাদের লক্ষ্য হতে হবে জনমানুষের পাশে থাকা, তাদের দু:খ-কষ্টে শরিক হওয়া এবং একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে পুনরায় নিজেদের প্রস্তুত করা। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দল নয়, এটি গণমানুষের দল। আর গণমানুষের সমর্থন যাদের সাথে থাকে, তাদের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা অসম্ভব।

আসুন, আমরা সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখি। বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে অন্যায়, নির্যাতন ও অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। আজ আমাদের অঙ্গীকার—আবারও মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।

জয় বাংলা।
জয় বঙ্গবন্ধু।

 

লেখক: মিজানুর হক খান, সভাপতি, জার্মান আওয়ামী লীগ

এই বিভাগের আরো খবর