পিন্টু শেখ:
ঢাকার কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ৪ থেকে ৫টি হাতবোমার বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার বিকেলে তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে রিফাত মোল্লার সমর্থক মালেক গাজী (৫৩), শাহীন মিয়া (৩৪), সাজ্জাদ হোসেন (২২) ও মাহমুদ হাসান (২৭) আহত হন। এর মধ্যে শাহীন মিয়া ছুরিকাহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং সাজ্জাদ হোসেন চোখে আঘাত পেয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি কর্মী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আতাউর রহমান রিফাত মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই একটি পক্ষ তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে নানা অপকৌশল চালিয়ে আসছে।
তিনি দাবি করেন, “বুধবার বিকেলে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় এবং তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের অনেকেই আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল, বর্তমানে তারা বিএনপির ব্যানারে সক্রিয়।”
এ ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায়ের আশ্রয়ে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি পাভেল মোল্লার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করেন তিনি।
রিফাত মোল্লা আরও বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্যাতন সহ্য করেছি, জেলও খেটেছি। অথচ এখন আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আমার লোকজনের ওপর হামলা করা হয়েছে। পরে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দেওয়া হয়েছে। মামলার বাদী করা হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ বিশালকে।”
তিনি অভিযোগ করেন, থানায় মামলা করতে গেলে পাভেল মোল্লার লোকজন বাধা দেয়। মামলা গ্রহণ না করলে আদালতে মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি পাভেল মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম পল বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত ছিল। মামলা না হওয়াই ভালো হতো।”
অন্যদিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে ফোন কেটে দেন।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “থানা সবার জন্য উন্মুক্ত। কেউ অভিযোগ নিয়ে এলে আমরা তা গ্রহণ করব এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”