খেলাধুলা ডেস্ক:
দীর্ঘদিন রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এই সময়টায় জাতীয় দলের জার্সিতে তাকে আর দেখা যায়নি। তবে আসন্ন সিরিজগুলোতে আবারও জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এই ক্রিকেটারের।
শনিবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বোর্ড সভায় সাকিবকে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন।
তিনি জানান, বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে—সাকিব আল হাসান যদি ফিটনেস, খেলতে পারার মানসিক প্রস্তুতি এবং সিরিজ সংশ্লিষ্ট ভেন্যুতে উপস্থিত থাকার সক্ষমতা দেখাতে পারেন, তাহলে তাকে নির্বাচনের জন্য বিবেচনা করা হবে। নির্বাচক প্যানেলের পাশাপাশি বোর্ডও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য সাকিবকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়ার কথাও জানিয়েছে বিসিবি।
আমজাদ হোসেন আরও বলেন, সাকিবকে কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আনার প্রস্তাবও দিয়েছে বোর্ড। তবে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলা ও আইনি জটিলতা নিয়ে বিসিবি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে।
এদিকে বিশ্বকাপ ইস্যুর আলোচনার মধ্যেই সাকিব প্রসঙ্গ কেন উঠে এলো—সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর। তিনি বলেন, ক্রিকেট অপারেশনস সংক্রান্ত এজেন্ডায় কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় থাকা ২৭ জন খেলোয়াড়ের তালিকা নিয়ে আলোচনা চলছিল। গ্রেড ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ তালিকা নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে বোর্ডের একজন পরিচালক সাকিবের বিষয়টি উত্থাপন করেন।
আসিফ আকবর জানান, বোর্ডের সঙ্গে সাকিবের যোগাযোগ হয়েছে এবং তিনি জাতীয় দলে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়টি বিসিবি সভাপতির নজরে আনা হয়েছে এবং সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও বলা হয়েছে। সাকিবের ব্যক্তিগত ও আইনি বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে, তা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে বোর্ডের পক্ষ থেকে তাকে দলে ফেরাতে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ বিরতির পর সাকিব আল হাসানের জাতীয় দলে ফেরার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে বিসিবির এই সিদ্ধান্তকে।