চরফ্যাশনের বকুল হত্যা মামলার রায়, ৩ জনকে মৃত্যুদন্ড

শিপুফরাজী, চরফ্যাশন:

চরফ্যাশনের মুজিব নগর ইউনিয়নের সিকদারের চরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ৩জনকে মৃত্যুদন্ড এবং ৭জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এসব আসামীদেরকে অর্থদন্ডে দন্ডিত করে অনাদায়ে বাড়তি সাজার কথা উল্লেখ করা হয়েছে রায়ে। রবিবার চরফ্যাশন চৌকি আদালতে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো শওকত হোসাইন এ দন্ডাদেশ দেন। রায় ঘোষনাকালে রাষ্ট এবং আসামী পক্ষের আইনজীবিসহ এক আসামী উপস্থিত ছিলেন।

দন্ডিত আসামীদের মধ্যে আব্দুল মালেক প-িত, মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও আব্দুল মান্নানকে মৃত্যুদ- এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- ভোগ করতে হবে। একই ধারায় মোহাম্মদ সেলিম ও মোহাম্মদ রফিককে যাবজ্জীবন কারাদ- এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- ভোগ করতে হবে।এ ছাড়া অপরাধীকে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে দ-বিধির ২১২ ধারায় মোহাম্মদ জসিম, মোহাম্মদ ফিরোজ ও মোহাম্মদ সোহাগকে ৩ বছর করে সশ্রম কারাদ- এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- ভোগ করতে হবে। দ-বিধির ২০৩ ধারায় মোহাম্মদ আলম বাচ্চু মেলকারকে ২ বছরের সশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে। দ-বিধির ১১০ ও ৪৩৬ ধারায় মোহাম্মদ কবিরকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদ- এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- ভোগ করতে হবে।আসামি আজাদকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নিন্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত তাৎক্ষণিকভাবে সাজা পরোয়ানা জারির নিন্দেশ দেন। পাশাপাশি মামলার আলামত বিধিমোতাবেক নিষ্পত্তি এবং আদায়কৃত জরিমানার অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নিন্দেশ দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ৩ আসামির সাজা নিশ্চিতকরণের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী মামলার মূল নথি, রায়ের অনুলিপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নিন্দেশ দিয়েছেন আদালত।চরফ্যাশনের আলোচিত এ মামলার রায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা একে ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ’২০২২সনে ২৯ নভেম্বর গভীর রাতে উপজেলার তেতুলিয়া নদীর পাড়ের মজিব নগর ইউনিয়নের শিকদারের চর ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মো আলম বাচ্চু মেলকারের বসতঘরের সামনের বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় গৃহবধূ বকুল বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা তাঁর বড় বোন মুকুল বেগমও হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন।ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ২ডিসেম্বর স্থানীয় অলিল চৌকিদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে দুলারহাট থানায় মামলা করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা দির্ঘ তদন্ত শেষে এঘটনায় উল্লেখিত ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত এ মামলার রায় প্রদান করেন। রাস্ট্র পক্ষের আইনজীবি এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট হযরত আলী হিরন এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। এজন্য তিনি মামলার বিচারক অতিরিক্ত জজ শওকত হোসাইনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এই বিভাগের আরো খবর