ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়

চরফ্যাশনে দুগ্ধজাত পণ্যের ভিন্নধর্মী মেলা !

চরফ্যাশন প্রতিনিধি:

চরফ্যাশনে উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত দুগ্ধজাত পণ্যের এক ব্যতিক্রমী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার প্রাণকেন্দ্র চরফ্যাশন বাজারের কয়েকটি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর আর্থিক সহায়তায় রুরাল মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট (আরএমটিপি) এর নিরাপদ মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার উন্নয়ন ” উপ-প্রকল্পের আওতায় কারিগরি সহায়তায় দিয়ে এই মেলার আয়োজন করে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলার ফ্যাসন স্কযার চত্বরে এ মেলার আনুষ্ঠানিক প্রধান অতিথি খেকে উদ্বোধন করেন চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা মোঃ রাজন আলী। দিনব্যাপী এ মেলায় অংশগ্রহণ করে চরফ্যাশন ও লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১০টি দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান।

সকালে শুরু হয়ে মেলা চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। মেলায় প্রদর্শিত হয় গরু ও মহিষের দুধ থেকে তৈরি নানা ধরনের পণ্য, যার মধ্যে ছিলো দেশি ঘি, দই, ছানা, রসমালাই, সর মালাই, ক্ষিরপæলি ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন। প্রতিটি স্টলেই পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ বিশেষ ছাড় দেয়া হয়, যা সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চরফ্যাশন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: মামুন হোসেন, উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মোঃ নুরুল আমিন শাহ, পরিবার উন্নযন সংস্থার সিনিয়র প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী শংকর চন্দ্র দেবনাথ, আরএমটিপি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ডাঃ মোঃ ছাদ্দাম হোসেনসহ অন্যান্যরা।

মেলায় আসা অতিথিরা বলেন, এ ধরনের মেলা শুধু স্থানীয় খামারিদের আয় বৃদ্ধির সুযোগই তৈরি করে না, বরং নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যপণ্য ভোক্তাদের হাতে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এছাড়া, গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এ ধরনের মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আয়োজকরা জানান, মেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় শুরু হয় দোকানগুলোতে। বিশেষকরে, ভৈষা দই বিক্রির দোকানগুলোতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

এফডিএ’র সিনিয়র প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী শংকর চন্দ্র দেবনাথ জানায়, এসইপির মাধ্যমে ভোলা জেলাকেন্দ্রিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) চরফ্যাশনে উৎপাদিত দুগ্ধ পণ্যকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত ও বাজারজাতকরণে কাজ করছে। সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব খামার তৈরি, নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তিতে পণ্য প্রক্রিয়া এবং বাজারজাতকরণে প্রান্তিক খামারি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সংস্থাটি। পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে আর্থিক ও সব ধরনের কারিগরি সহায়তা।

তাদের সহায়তায় এই এলাকার দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদভাবে বাজারে আসছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। ভৈষা দই এখন একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ঢাকার বাজারে পরিচিতি পাচ্ছে। অচিরেই এই পদ্ধতিতে অনেক স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের উৎপাদিত দুগ্ধপণ্য জাতীয় বাজারে নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা যায়

এই বিভাগের আরো খবর