সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি রোধে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই: নুরুন নাহার হেনা

সময়ের চিত্র রিপোর্ট :
জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) নুরুন নাহার হেনা বলেছেন,বর্তমান বিশ্বায়নের
যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুরুত্ব অনিস্বীকার্য। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের
নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে যুব সমাজের ওপর। এই ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে পরিত্রাণের জন্য পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
বাংলাদেশে গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান যত আয়োজন করা হবে ততই এর উপকার আমাদের সমাজে
বর্তিত হবে।

আজ ১ নভেম্বর বুধবার জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুবসমাজের আসক্তি রোধে
গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মা যদি সন্তানের মধ্যে ভালোবাসা তৈরি করতে পারেন, তাহলে ওই সন্তান অন্য জায়গায় ভালোবাসা খোঁজে বেড়াবে না। সন্তান আদর্শবান হবে। সন্তান হবে মানুষের মতো মানুষ। সন্তানকে সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনো আসক্তি থেকে বিরত রাখতে পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী হওয়া জরুরি।

কর্মশালায় প্রধান আলোচক ছিলেন, সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুনজুরুল আহসান বুলবুল। আলোচক ছিলেন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর মিডিয়া বিভাগের অ্যাডিশনাল এসপি মো. আবু ইউছুফ। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) নুরুন নাহার হেনা। ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশি, অনু.) ড. মো. মারুফ নাওয়াজ-এর সঞ্চালনায় জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাদেক, সুমনা পারভীন ও সহকারী পরিচালক সাইফুন্নাহার কর্মশালার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে ৪ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন। আর ইউটিউবে ভিডিও কনটেন্ট দেখেন ৩ কোটি ৪৪ লাখ মানুষ। এদের মধ্যে বেশিরভাগই ১৩ থেকে ৩৪ বছর বয়সী। বিশেষ করে শর্ট ভিডিওর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আসক্ত করছে। এই ভিডিওগুলোর বেশিরভাগ উদ্দেশ্যই এড রেভিনিউ বা টাকা উপার্জন। এসব ভিডিওর কারণে প্রচুর সময় নষ্ট করছে যুব সমাজ। এসব ভিডিও আসক্তির কারণে বিশেষ করে পড়াশোনা ও কাজে ব্যাঘাত হচ্ছে। অতিমাত্রায় শর্ট ভিডিও দেখার কারণে তরুণরা পরীক্ষার ভালো রেজাল্ট করতে পারছে না, অনেকেই ডিপ্রেশন বা হতাশায় ভুগছে।

আলোচকবৃন্দ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে অতিমাত্রায় আসক্তির ফলে যুবসমাজের শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। সামাজিক গণমাধ্যমে অতি আসক্তির ফলে যুবসমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয় আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

কর্মশালায় বক্তারা নৈতিক মূল্যাবোধের উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে গণমাধ্যমের আরো কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বরোপ করেন।

এই বিভাগের আরো খবর