ঠাকুরগাঁও থেকে বঙ্গভবন—মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা

জাহিদ হাসান

 

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নতুন এক অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে বিএনপির নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির মহাসচিব—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পর এবার রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর মনোনয়ন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন মির্জা ফখরুল। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে কারাবরণ করেন তিনি। স্বাধীনতার পর শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন।

 

১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি, দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন তিনি।

 

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর মির্জা ফখরুল দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তাঁর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে যেতে পারেন।

 

শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও দলীয় মহাসচিবের দায়িত্ব পেরিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য যাত্রা—মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনে এটি হতে যাচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায়।

এই বিভাগের আরো খবর