সময়ের চিত্র ডেস্ক:
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রচলিত অর্থে কালো টাকা বৈধ করার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান। তিনি বলেন, ভূমি ও ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত লেনদেনমূল্য প্রকাশে উৎসাহ দিতে কিছু কর-সুবিধা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি দাবি করে, নতুন বাজেটে পরোক্ষভাবে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বাস্তবে বিষয়টি সেভাবে দেখার সুযোগ নেই।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে জমি ও ফ্ল্যাটের প্রকৃত বাজারমূল্য এবং নিবন্ধনমূল্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকায় অনেক বৈধ লেনদেনও কর-সংক্রান্ত জটিলতার মুখে পড়ে। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগের অর্থবছর থেকেই বিক্রেতাদের জন্য এমন একটি সুবিধা চালু রয়েছে, যেখানে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেনের প্রমাণ দেখিয়ে নির্ধারিত কর ও মূলধনী মুনাফা কর পরিশোধের মাধ্যমে প্রকৃত আয় প্রদর্শন করা যায়।
এবার একই ধরনের সুযোগ ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও বিবেচনা করা হয়েছে। অনেক সময় সম্পত্তি প্রকৃত মূল্যে কেনা হলেও নিবন্ধনে কম মূল্য দেখানো হয়। পরবর্তীতে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটিত হলে ক্রেতাদের অতিরিক্ত কর ও জরিমানার সম্মুখীন হতে হয়।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী কেউ স্বেচ্ছায় প্রকৃত লেনদেনমূল্য ঘোষণা করলে নির্ধারিত অতিরিক্ত কর পরিশোধের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়মিত করার সুযোগ পাবেন। তবে এ নিয়ে আপত্তি থাকলে সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
একই অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মৌজা রেট বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় এ ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
তিনি জানান, মৌজা রেটকে বাস্তব বাজারদরের কাছাকাছি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে একটি কমিটিও কাজ করছে। দীর্ঘমেয়াদি জরিপের মাধ্যমে ভূমির মূল্য কাঠামো হালনাগাদ করা হবে।
অর্থমন্ত্রীর মতে, মৌজা রেট ও বাজারমূল্যের ব্যবধান কমে এলে লেনদেনমূল্য গোপনের প্রবণতা হ্রাস পাবে এবং এ ধরনের কর-সুবিধা নিয়ে বিতর্কও কমে আসবে।