সময়ের চিত্র ডেস্ক:
নাটকীয় এক লড়াইয়ে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দুই গোল করে আলবিসেলেস্তেরা নিশ্চিত করেছে স্মরণীয় জয়।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। দুই দলই মাঝমাঠের লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকায় পরিষ্কার গোলের সুযোগ খুব কম তৈরি হয়। প্রথম ৪৫ মিনিটে বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনা কিংবা ইংল্যান্ড—কোনো দলই লক্ষ্যে কার্যকর শট রাখতে পারেনি। বরং ফাউল ও শারীরিক লড়াইই ছিল প্রথমার্ধের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
বিরতির পর ম্যাচের গতি পাল্টে যায়। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ডান প্রান্ত থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে গর্ডন কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
গোল হজমের পর আক্রমণের ধার বাড়ায় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ ও নিকোলাস গঞ্জালেজ একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন। একবার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
তবে শেষ মুহূর্তে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৮৫ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে এনজো ফার্নান্দেজ দারুণ শটে সমতা ফেরান। ১-১ গোলে ম্যাচে ফিরে আসে আর্জেন্টিনা।
ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে নির্ণায়ক মুহূর্ত। দ্রুতগতির এক আক্রমণে লাউতারো মার্টিনেজ বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।
নকআউট পর্বজুড়েই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করে সেমিফাইনালে ওঠা দলটি এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের দৃঢ় মানসিকতার আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপার আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছে গেল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।