স্টাফ রিপোর্টার:
“ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে “এলজিইডি” ও “LKSS”-এর নাম ব্যবহার করে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞাপন দিয়ে শত শত চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ৩-৫ লাখ টাকা করে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।
উক্ত ফেসবুক পেইজে কাগজপত্র জমা দেওয়ার ৭ দিনের মধ্যে চাকরি নিশ্চিত করার প্রলোভন দেখানো হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর বিভিন্ন অজুহাতে ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা দিলে নিয়োগপত্রও দেওয়া হয় এবং প্রার্থীরা নির্ধারিত প্রকল্পে যোগদান করে নিয়মিত ডিউটি করেন। কিন্তু মাস শেষে বেতন না পেয়ে মাসের পর মাস মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ভোক্তভোগীদের দাবি, এ চক্রের অন্যতম হোতা সোহেল রানা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিগত সরকারের এলজিআরডি মন্ত্রীর পিএস জাহিদ চৌধুরীর মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখায় বদলি হন। অভিযোগে আরও বলা হয়, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের কিছু ছবি সংগ্রহ করে তিনি মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করেন। ক্রেস্ট প্রদান ও একই টেবিলে খাবার খাওয়ার ছবি দেখিয়ে চাকরি, বদলি ও প্রমোশন প্রত্যাশিদের বোঝানো হয় যে তার সঙ্গে প্রধান প্রকৌশলীর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
চক্রের আরেক সদস্য হিসেবে এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমবায় সমিতি LKSS-এর ম্যানেজার নূরুল ইসলামের নাম এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ডিপ্লোমা পাশ নূরুল ইসলাম কৌশলে উপজেলা প্রকৌশলীর পদ বাগিয়ে নেন। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আগেও উঠেছে।
ভোক্তভোগীদের দাবি, তিনি ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে শত শত মানুষকে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়েছেন।
এক ভুক্তভোগী জানান, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল প্রকল্পে কর্মরত এক কার্যকারীকে নূরুল ইসলাম ৩ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে নিয়োগপত্র দেন। প্রায় এক বছর ডিউটি করানোর পর বেতন না দিয়েই তাকে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং তার স্থলে নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়।
সূত্র মতে, উপকূলীয় শহর জলবায়ু সহিষ্ণু প্রকল্পের জনবল সরবরাহ সংস্থা LKSS-HRC-এর প্যাডে ২০২৫ সালের ২ জুন আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে ক্যাটাগরি-১ এর আওতায় কার্য সহকারী পদে কুষ্টিয়ার দুই ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
১. তারেক শেখ – স্মারক নং HRC/CTCRP/চুক্তি-২৫৯/২০২৪/নথি:৬২/প্রতি:নিয়োগ/জনবল-৫২-জন/ক্রমিক:২৯
২. আশরাফুল ইসলাম – স্মারক নং HRC/CTCRP/চুক্তি-২৫৯/২০২৪/নথি:৬২/প্রতি:নিয়োগ/জনবল-৫২-জন/ক্রমিক:৪৩
অভিযোগ রয়েছে, নূরুল ইসলামের প্রলোভনে পড়ে তারা সুদে টাকা নিয়ে প্রত্যেকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা দেন। একজনের পোস্টিং হয় বানারিপাড়া পৌরসভায়, অন্যজনের ঝালকাঠি পৌরসভায়। ৩-৪ মাস ডিউটি করার পর বেতন না পেয়ে তারা বাড়ি ফিরে যান। বর্তমানে তারা ঋণের বোঝা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, এলজিইডি ও LKSS-এর নাম ব্যবহার করে চলা এই প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একইসঙ্গে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি আহ্বান, সরকারি কোনো নিয়োগের জন্য ফেসবুক পেইজ বা ব্যক্তিগত লেনদেনে টাকা না দিতে।
এ বিষয়ে এলজিইডির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে LKSS ম্যানেজার নুরুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী থাকলে তাদের আইনের আশ্রয় নিতে বলেন।
এ ব্যাপারে জানতে সোহেল রানাকে কোনোভাবেই পাওয়া যায়নি।