মোঃ মাসুম রানা, গাজীপুর থেকে:
গাজীপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে “চ্যানেল এস”-এর গাজীপুর মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি মোঃ জাকারিয়া শিকদারের ওপর বর্বর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাকে জোরপূর্বক অপহরণ, মারধর, অবর্ণনীয় নির্যাতন এবং বিবস্ত্র করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগে গাছা থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে, ২০২৬ ঈদের দিন দুপুর আনুমানিক ২টা ৩৫ মিনিটে চ্যানেল এস-এর কাজ শেষে বোর্ড বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন সাংবাদিক জাকারিয়া। পথিমধ্যে তিনি সংবাদ পান যে, গাছা থানাধীন মালেকের বাড়ী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দক্ষিণ পাশে একটি পরিত্যক্ত চার তলা ভবনে আবাসিক হোটেলের নামে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে।
সংবাদ পেয়ে দুপুর আনুমানিক ২টা ৫৫ মিনিটে তিনি সেখানে পৌঁছান এবং নিজের ব্যবহৃত স্মার্টফোন দিয়ে গোপনীয়ভাবে ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিও ধারণ শেষে ফেরার পথে ওই ভবনে অবস্থানরত আসামিরা ও তাদের সহযোগীরা সাংবাদিক জাকারিয়ার ওপর চড়াও হয়। তারা তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ওই চার তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি রুমে আটকে রাখে।
আটকে রাখার পর আসামিরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে কাঠের বাটাম দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তা কপালে ও চোখের পাশে লেগে রক্তাক্ত ও নীলাফোলা জখম হয়। কিল-ঘুষি মেরে তার মুখমণ্ডল ও ঠোঁট ফেটে রক্তাক্ত করা হয়।
নির্যাতনের একপর্যায়ে আসামিরা সাংবাদিক জাকারিয়ার পেশাগত কাজে ব্যবহৃত আনুমানিক ৭৫,০০০/- টাকা মূল্যের একটি ‘ক্যানন’ ব্র্যান্ডের ডিএসএলআর ক্যামেরা, তার স্মার্টফোন এবং পকেটে থাকা নগদ ৭,০০০/- টাকা লুটে নেয়।
দুপুর আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে আসামিরা আরও জঘন্যতম অপরাধে লিপ্ত হয়। সাংবাদিক জাকারিয়াকে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে সেখানে থাকা কয়েকজন নারীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে এই ঘটনা কাউকে জানালে বা আইনের আশ্রয় নিলে ওই অশ্লীল ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় আসামিরা। একই সাথে তাকে প্রাণনাশের পর লাশ গুম করারও হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আসামিরা সাংবাদিকের ফোনে থাকা কর্মস্থলের গুরুত্বপূর্ণ ছবি ও নথিপত্র ডিলিট করে দিয়ে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখার পর ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেয়।
ঘটনার পর আহত অবস্থায় সাংবাদিক জাকারিয়া শিকদার শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সহকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনা করে গাছা থানায় এজাহার দায়ের করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান শুরু হলে রাতে ৫জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলো – মিলন (১৮), ওমর ফারুক (২৯), মধু (২০), শাহআলম মীর (৪৬), কবির ওরফে আব্দুল কাদির (৩৮)।
অভিযুক্ত আসামি কবিরের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অন্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে এ ঘটনায় বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে অগিযান চলমান রয়েছে।