কাজী ইমরান:
বৃহস্পতিবার (১৯অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকের কাঠি বাদনের মধ্য দিয়ে মহাষষ্ঠী তিথিতে দেবীকে বোধনের মধ্য দিয়ে নড়াইল জেলার লোহাগড়ায় শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাঁচ দিনব্যাপী প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা
আগামী ২৪ অক্টোবর বিজয়া দশমীর পর প্রতীমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। ইতোমধ্যে লোহাগড়া উপজেলা ও পৌরসভাসহ ১২টি ইউনিয়নের সব মন্ডবের সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দূর্গা পূজা সম্পন্ন করার জন্য দলে দলে বাড়ছে পূজা পূর্ণার্থীদের ভিড়। আর পরিবেশ শান্তিপুর্ণ রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আনসার ভিডিপিসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
এদিকে কচুবাড়িয়া সার্বজনীন দশভূজা মন্দির, লক্ষীপাশা কালিবাড়ি দূর্গা মন্দির, কচুবাড়িয়া আদিবাসী দূর্গা মন্দির, লক্ষীপাশা বাউতিপাড়া সার্বজনীন দূর্গা মন্ডব, জগন্নাথ দেব দূর্গা মন্দির, পুদ্দারপাড়া দূর্গা মন্দির, চৌধুরীপাড়া দূর্গা মন্দির, কুন্দশী সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, গোপীনাথপুর ঋষিপাড়া দূর্গা মন্দির, রামপুর সার্বজনিক দূর্গা মন্দিরসহ অন্যান্য মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যেক পূজা মন্ডবে চলছে উৎসবের ঢল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডাক, ঢোল, কাসি-ঝাঝর, উল্লুধ্বনী, শংঙধ্বনীর মধ্যে দিয়ে দেবী দূর্গাকে বরণ করে নিয়েছেন লোহাগড়ার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
দেখা গেছে প্রতিটি পূজা মন্ডবে উৎসবের আমেজ।
পঞ্জিকা মতে, আগামী ১৪ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দেবী দুর্গার পূজা। আজ ২০শে অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হলো এই মহা উৎসবের এবং ২৪শে অক্টোবর বিজয়াদশমী মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচদিন এই শারদীয় দুর্গোৎসব।
এ উৎসবকে কেন্দ্র করে লোহাগড়া উপজেলার প্রতিমা শিল্পীরা তাদের কল্পনায় দেবী দুর্গার অনিন্দ্যসুন্দর রূপ দিতে দিনরাত কাজ করে নিপূন হাতে অপরুপ কারুকার্য করে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তৈরি করেছেন প্রতিমা। স্হানীয় ভাবে প্রতিমা তৈরীর শিল্পীদের “পাল” বল সম্বোধন করা হয়।
পৌর শহরের কচুবাড়ীয়া, রামপুর, লক্ষ্মীপাশা, জয়পুর, লোহাগড়া, পোদ্দারপাড়া, চৌধুরীপাড়া, কুন্দশীসহ বিভিন্ন মন্ডব ঘুরে দেখা গেছে , প্রতিমা তৈরির কারিগরা তাদের নিখুঁত হাত দিয়ে প্রতিমার ‘দো-মাটির’ কাজ করছেন।। মন্দিরগুলোতে দেবী দুর্গার প্রতিমা ছাড়াও কার্তিক, গনেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতীসহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন এই শিল্পীরা।
নবগঙ্গা নদী পাড়ের কুন্দশী গ্রামের প্রতিমা তৈরীর শিল্পী পবিত্র পাল বলেন, ‘এটা আমার বাপ-দাদার পেশা। শিশুকাল থেকেই প্রতিমা তৈরীর কাজে জড়িত। সারা বছর কাজ না থাকলেও বছরের এই সময় ১১ টি প্রতিমা তৈরীর কাজ করছি । এ জন্য ৪/৫ জন সহযোগী নিয়ে কাজ করতে হয়েছে।
ওই শিল্পী আরও বলেন, সময়ের সাথে সাথে প্রতিমার আকার ও ডিজাইনে ভিন্নতা এসেছে।
শহরের কচুয়াবাড়ী দশভুজা সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির সভাপতি কাজল বলেন, গত বছরে তুলনায় এবছর বাজেট অনেক বাড়াতে হয়েছে। এ বছর প্রতিমা তৈরির খরচও অনেক বেশি।
তিনি আরো জানান, মন্দির ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায় রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
লক্ষ্মীপাশা সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক রূপক মুখার্জি বলেন, ‘নিত্যপন্যের দাম আকাশচুম্বী। প্রতিটা জিনিসের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে আমাদের বাজেট বেড়ে গেছে।
লোহাগড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রবীর কুন্ডু মদন জানান, এ বছর লোহাগড়ায় মোট ১৫২ টি মন্দিরে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে লোহাগড়া পৌরসভায় ৪১টি পূজা মন্ডবে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
লোহাগড়া পৌরসভা পূজা উদযাপন পর্ষদের সভাপতি কিশোর রায় ও সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন কুন্ডু ছোটন জানান, ‘ সামনে নির্বাচন। তাই পূজা চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্হিতি নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা আছে। নেতৃবৃন্দ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দূর্গা পূজা উদযাপনের জন্য সকালের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
লোহাগড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক পরীক্ষিত শিকদার বলেন, আশা করছি এবারে শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হবে।
এবারে ‘মা’ আসছেন ঘোড়ায় চড়ে, যাবেনও ঘোড়ায় চড়ে, ফলাফল ছত্রভঙ্গ এমনটায় জানালেন, লক্ষীপাশা শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরের প্রধান পুরোহিত সুকান্ত চট্টোপাধ্যায় বিপ্লব।