সময়ের চিত্র ডেস্ক:
ঘুষ, দুর্নীতি ও অনাচারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ‘গ্রীন ফোর্স বাংলাদেশ’-এর নেতৃবৃন্দ। তারা একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ‘OLD 19’ রেস্টুরেন্টে অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘গ্রীন ফোর্স বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় ও কমিটি পরিচিতি সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
গ্রীন ফোর্স বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মো. শাহ আলম রাসেলের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মিকায়েল রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব এবং প্রাইম ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. আবদুর রহমান খোকন। সভা পরিচালনা করেন ঢাকা বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন খাঁন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলোকচিত্রী ও ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনের কর্মী শহিদুল আলম, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার আলী আকবর আজিজী এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন।
এ ছাড়া মেজর জেনারেল মুজাহিদ উদ্দিন (অব.), মেজর জেনারেল নুরুজ্জামান চৌধুরী (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস.এম. বায়োজিদ খান (অব.), কমোডোর সানাউল নোমান, বিএন (অব.), ক্যাপ্টেন শামীম খান পাঠান, বিএন (অব.), ক্যাপ্টেন অসীম বরণ চৌধুরী, বিএন (অব.), লেফটেন্যান্ট কর্নেল তোজাম্মেল হক (অব.), লেফটেন্যান্ট কর্নেল তপন মিত্র (অব.), মাহফুজ কুরেইশী ও মিসেস খালেদা হেনাসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন গ্রীন ফোর্স বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগীয় ওমেন্স ফ্রন্টের আহ্বায়ক মমতাজ বেগম মম, মহানগর উইমেন্স কমিটির আহ্বায়ক পারুল সরকার লিনা, ঢাকা বিভাগের যুব ফ্রন্টের আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাকিব হোসেন, রংপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাঈদ আজিজ চৌধুরী এবং নগর পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জিনিয়ার পুলক কান্তি বড়ুয়া।
সভায় বক্তারা বলেন, দুর্নীতি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার ব্যবস্থা ও সরকারি সেবাসহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরও স্বাধীন ও শক্তিশালী করা, প্রশ্নফাঁস ও কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, সরকারি হাসপাতালে ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ই-টেন্ডারিং বাধ্যতামূলক করা এবং শিক্ষা কারিকুলামে দুর্নীতিবিরোধী নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
সভা থেকে ‘ঘুষ দেবেন না, ঘুষ নেবেন না’, ‘অন্যায়ে নীরব থাকবেন না’ এবং ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন’—এই বার্তা নিয়ে দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়।
সারা দেশ থেকে আগত সংগঠনের সদস্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় ও কমিটি পরিচিতি সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।