মোঃ মমিনুল ইসলাম, গাজীপুর:
গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলায় ঈদের একদিন আগে থেকে শুরু হওয়া কালিয়াকৈর শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম ও মাইক ব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাত ১০টা পর্যন্ত উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে, যার ফলে শব্দ দূষণের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জানা যায়, গত ২৫ মে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের অনুমোদনে “সৈয়েদুর রহমান ট্রেডিং কোম্পানি (SRTC)” এর নামে মেলার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী পরিচালনার কথা থাকলেও মেলা কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মানছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেলার প্রায় ১০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি অব বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা উচ্চ শব্দের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছেন না। এছাড়া মেলাটি আবাসিক এলাকার নিকটবর্তী হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন,
আমাদের সামনে পরীক্ষা চলছে। কিন্তু প্রতিদিন রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান ও মাইক বাজানোর কারণে ঠিকমতো পড়াশোনা করা যাচ্ছে না। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
এলাকার এক বৃদ্ধ জব্বার মিয়া বলেন, “আমরা শান্তিতে বিশ্রাম নিতে পারছি না। ছোট বাচ্চা ও অসুস্থ মানুষদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, পার্ক ও বাণিজ্য মেলা সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, কালিয়াকৈর শিল্প ও বাণিজ্য মেলা কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশনা মানছে না।
এ বিষয়ে মেলার ব্যবস্থাপনায় থাকা মো. মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে মেলার মূল পরিচালক সৈয়েদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
মেলার বিষয়টি মাহবুব দেখছেন। তার সঙ্গে কথা বলেন। আমি বর্তমানে অসুস্থ। এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন,
মাঠ প্রশাসনের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন শপিংমল ও মার্কেট সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা সরকারি আদেশ অমান্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই নিয়ম মেলা কর্তৃপক্ষকেও মানতে হবে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার পরিবেশ ও জনস্বার্থ বিবেচনায় মেলা পরিচালনায় সরকারি শর্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।