ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো অকার্যকর 

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন বিশ্লেষকের মতে, ইরানের পাল্টা হামলার ফলে এসব ঘাঁটির অনেকগুলোই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে এগুলো কৌশলগত সুবিধার চেয়ে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। George Washington University-এর “প্রজেক্ট অন মিডল ইস্ট পলিটিক্যাল সায়েন্স”-এর পরিচালক Marc Lynch বলেন, গত এক মাসে ইরান কার্যত অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, Bahrain-এ অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এখন সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রায় ৯ হাজার সেনা সদস্যের এই ঘাঁটিটি একাধিক হামলার লক্ষ্য হওয়ায় এর কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ডজনখানেক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। Saudi Arabia, Kuwait, Qatar এবং Omanসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা এসব স্থাপনায় আগে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল।

১৯৯০ সালের Gulf War-এর পর থেকে তেল ও নিরাপত্তা নির্ভর সম্পর্কের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে যে জোট গড়ে উঠেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বড় ধরনের চাপে পড়েছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট স্টাডিজের সহযোগী পরিচালক Shana Marshall মনে করেন, এখন এসব দেশে মার্কিন ঘাঁটির উপস্থিতি আগের মতো সুবিধাজনক নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা দায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, বিমানবন্দর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়ার ঘটনাগুলো দেখিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন—যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা ছাতা’ আর আগের মতো কার্যকর নেই।

Quincy Institute for Responsible Statecraft-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট Trita Parsi জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। এতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব ঘাঁটি হামলা প্রতিরোধের পরিবর্তে নিজেরাই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তা কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে এবং ভবিষ্যতে নতুন আঞ্চলিক সমঝোতা বা জোট গঠনের দিকে ঝুঁকতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর