সময়ের চিত্র ডেস্ক:
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধারাবাহিক কিছু সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের মাধ্যমে আলোচনায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর বিভিন্ন সমাবেশ ও বক্তব্যে তিনি উন্নয়ন, সুশাসন এবং নাগরিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর তিনি সরকার গঠন করেন এবং দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদারের কথা বলেন। একই সঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।
তিনি জানান, কোনো ধরনের অন্যায় বা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতি সহনশীলতা দেখানো হবে না।
সরকারি ব্যয় সংযম ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়াতে কয়েকটি প্রতীকী পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যানজট ও জনভোগান্তি কমাতে গাড়িবহরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন ছাড়া পতাকাবিহীন গাড়ি ব্যবহারের নীতিও অনুসরণ করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক সুবিধা ও জনসাধারণের চলাচলে প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়ে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভিআইপি চলাচলের সময় সড়কের দুইধারে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েনের প্রচলিত বিধান পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে শেরেবাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর স্মৃতির প্রতি।
সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে নতুন সরকার তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে—দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। প্রধানমন্ত্রী মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে প্রশাসনিক মূল্যায়নের ওপর জোর দেন।
রাজনৈতিক পরিসরে বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও নজর কেড়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এসব উদ্যোগ রাজনৈতিক সহাবস্থান ও সংলাপের পরিবেশকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ব্যয় সংযম, প্রশাসনিক সংস্কার ও জনভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মাহাবুবুর রহমান বলেন, নীতিগত পরিবর্তন ও কার্যকর বাস্তবায়ন—দুটিই জনআস্থার জন্য সমানভাবে প্রয়োজন।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ঘোষিত অগ্রাধিকার ও সংস্কারমূলক উদ্যোগের ফলাফলই আগামী দিনে সরকারের সাফল্যের মূল মানদণ্ড হয়ে উঠবে।