স্টাফ রিপোর্টার:
আশুলিয়ায় ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট গণআন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে মামলার বাকি আসামিদের মধ্যে আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বিচারিক বেঞ্চে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে সদস্য হিসেবে ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনাল-২ গঠনের পর এটি প্রথম ঘোষিত রায়, যা বিচারিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রায় ঘোষণার সময় মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত করা হয়। বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ করেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।
অন্যদিকে, মামলার আরও আট আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন এবং আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনিসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
মামলার নথি অনুযায়ী, গণআন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে সাতজন নিহত হন। পরে তাঁদের মরদেহ একটি ভ্যানে তুলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন—সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
গত বছরের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালে গ্রেপ্তার থাকা আসামিদের মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে এসআই শেখ আবজালুল হক অভিযোগ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন।
প্রসিকিউশন গত ২ জুলাই ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগপত্রের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার তথ্য, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দুটি ডিজিটাল ডিভাইস উপস্থাপন করা হয়। গত ১ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিনটি নির্ধারণ করেন।
রায়ে বলা হয়, এ ধরনের নৃশংস ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই রায়ের মাধ্যমে শহীদদের পরিবার ও ন্যায়বিচারপ্রত্যাশী মানুষের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজনরা।