আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম :
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) কুড়িগ্রাম জেলা দায়রা জজ আদালত রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান দীপ মন্ডল, তার ছোট ভাই মুরাদ মন্ডল ও বাপ্পি মন্ডলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলাটি (নম্বর-১৯১/২০২৫) দায়ের করা হয় গত ৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে। এতে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামি করা হয় চেয়ারম্যান দীপ মন্ডলকে এবং তার দুই ভাই রয়েছেন ২ ও ৩ নম্বর আসামি হিসেবে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২ অক্টোবর ২০২৫ রাত সাড়ে ১০টার দিকে রায়গঞ্জ ইউনিয়নে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটির জেরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় অন্তত ৯ জন আহত হন।
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান দীপ মন্ডল বিএনপির কোনো সাংগঠনিক পদে না থেকেও দলের নাম ব্যবহার করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় কর্মসূচি পরিচালনার চেষ্টা করেন। এতে দলীয় নেতাকর্মীরা বাধা দিলে হামলার ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও দাবি করেন, নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত একটি বিএনপি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।