স্টাফ রিপোর্টার, ভোলা:
ভোলার লালমোহন উপজেলায় অটোরিকশা চালককে কুপিয়ে হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু ও চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে চরফ্যাশন পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী সেজে আবু বক্কর ছিদ্দিকের অটোরিকশা ভাড়া নেয় অভিযুক্তরা। তারা লালমোহনের গজারিয়া বাজারে যাওয়ার কথা বললেও রাত সাড়ে ৯টার দিকে পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের কচুয়াখালী এলাকায় পৌঁছে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আবু বক্কর ছিদ্দিকের বুকে ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে। এরপর নীল রঙের অটোরিকশাটি নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে লালমোহন থানায় হত্যা ও ডাকাতির মামলা করেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার পর লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার মূল পরিকল্পনাকারী মো. ইব্রাহিম (৩৬)কে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
ইব্রাহিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. রাজা (৩২) ও কাজী তারেক (৩৫) নামে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু ও চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য।
ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।