প্রতিবন্ধী-অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জেন্ডার-সংবেদনশীল আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা নিয়ে কর্মশালা
সময়ের চিত্র রিপোর্ট:
কারিতাস বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি, এবং সাতক্ষীরায় দুর্যোগ সহনশীল কমিউনিটি গড়ে তোলার উদ্যোগএর সহায়তায় নবলোক পরিষদ, অ্যাক্সেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও ডিসিএফ-এর সহযোগিতায় “খুলনা ও সাতক্ষীরায় প্রতিবন্ধী-অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল আগাম সতর্কবার্তা—গবেষণা পর্যবেক্ষণের উপস্থাপন” শীর্ষক কর্মশালার অনুষ্ঠিত হয়ছে ।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) ঢাকার গুলশান-২ এর হোটেল লেক ক্যাসলে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ এবং কমিউনিটি প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় উপস্থাপিত গবেষণায় দেখা যায় যে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে খুলনা ও সাতক্ষীরায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, নারী, শিশু ও প্রবীণরা এখনো কার্যকরভাবে আগাম সতর্কবার্তা গ্রহণ ও অনুসরণে নানা বাধার সম্মুখীন হন। আলোচকরা একমত হন যে, দুর্যোগ প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপে প্রতিবন্ধী এবং জেন্ডার বিবেচনাকে সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কারিতাস বাংলাদেশের প্রোগ্রামস ডিরেক্টর মি. অপূর্ব মুরং।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক নিতাই রঞ্জন।
উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উপ পরিচালক (উপ সচিব) ফারুক আহমেদ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লিড কনসালট্যান্ট এ এম নাসির উদ্দিন।
তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক সতর্কবার্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।
কমিউনিটির প্রতিনিধি মিস অষ্টমী মালো ও শরিফুল ইসলাম মিল্টন তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন।
নিজ বক্তব্যে অপূর্ব মুরং বলেন, “দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি সফল মডেল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার মাত্রা বাড়ছে। ফলে নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া, বোঝা এবং সময়মতো সরে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠছে।” তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের সিআরপিডি, সিডও, সেনদাই ফ্রেমওয়ার্ক ও এসডিজি—সব আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারই অন্তর্ভুক্তিমূলক সতর্কবার্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন সিপিপি-বিডিআরসিএস কর্মকর্তা সারাফাত হোসেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ড. মো. বজলুর রশীদ, ডিসিএফ-এর মিস নাসরিন ঝান, এবং সিবিএমজি-এর আবদুল্লাহ আল মামুন। সেশনটি পরিচালনা করেন অ্যাক্সেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যালবার্ট মোল্লা। আলোচনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা প্রণয়নে ব্যবহারিক কৌশল তুলে ধরা হয়।
প্রশ্নোত্তর পর্ব ও অতিথিদের বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মশালা শেষ হয়। মোডিএমআর, সিপিপি-বিডিআরসিএস ও জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী বক্তব্যে মি. অপূর্ব মুরং বলেন, “সবার জন্য কার্যকর আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা দুর্যোগ ঝুঁকি কমানো ও প্রাণ রক্ষার জন্য অপরিহার্য।”
অনুষ্ঠানটি ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে শেষ করেন নবলোক পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মি. কাজী রাজীব ইকবাল।