গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ডিমের সঙ্গে বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে খাইয়ে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামীর বাবা-মা ও বোন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বুধবার (১২ জুন) রাজধানীর উত্তরার শিনশিং জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহিদুল ইসলাম মারা যান। ওই হাসপাতালে তার বাবা, মা ও বোন ভর্তি রয়েছেন।
নিহত জাহিদুল ইসলাম গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের রয়েন গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৩ জুন জাহিদুলের ইউরোপের সাইপ্রাস যাওয়ার কথা ছিল। মৃত জাহিদুল ইসলাম পালোয়ানের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের নানা বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। ৩১ মে জুমার নামাজ শেষে জাহিদুল ইসলাম (২০) তার বাবা কবির হোসেন পালোয়ান, মা ইউপির সাবেক সংরক্ষিত মেম্বার লাভলী আক্তার, সদ্য এসএসসি পাস করা ছোট বোন মিনা দুপুরের খাবার খেতে বসে। পুত্রবধূ মুনা আক্তার ভাতের সঙ্গে নীল রংয়ের ডিম ভুনা খেতে দেয়। এতে সামান্য সন্দেহ হলেও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি তারা। ডিম খাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর থেকেই নানা যন্ত্রণায় ভুগতে থাকেন জাহিদুলসহ তার বাবা, মা ও বোন। স্থানীয় বাজার থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা করলেও কোনো প্রতিকার পায়নি তারা। দিন যত যাচ্ছে তাদের যন্ত্রণা ততই বাড়তে থাকে। অবশেষে অসহ্য যন্ত্রণা আর সইতে না পেরে চিকিৎসার জন্য গাজীপুর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতালে যান। সেখানে ডাক্তার তাদের পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে অবস্থার অবনতি হলে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেলল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরে ৮ জুন গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক তাদের দ্রুত ঢামেকে রেফার্ড করেন। সেখানে যাওয়ার পথে রাস্তায় তাদের অবস্থার অবনতি হলে উত্তরা শিনশিং জাপান হাসপাতালে ভর্তি করেন। জাহিদুলকে প্রথমে আইসিইউতে রাখা হলেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখার দুই দিন পর বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি মারা যান।
লাশ বাড়িতে এনে বুধবার ২টার দিকে মৃতের স্বজনরা সরকারি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। পরে কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম মৃতের বাড়িতে এসে লাশ থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে নিহতের বাবা কবির হোসেন বলেন, আমাদের সন্দেহ হয় ডিমের সঙ্গে কেমিক্যাল মিশিয়ে আমাদেরকে খাওয়ানো হয়েছে। তাই বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্যই লাশের ময়না তদন্ত দরকার। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা করব।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহতাব উদ্দিন বলেন, বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্যই লাশের ময়না তদন্ত করা হচ্ছে। আপাতত একটি জিডি করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্টে হত্যাকাণ্ড হলে মামলা রুজু হবে।