সময়ের চিত্র ডেস্ক:
ডেসটিনি গ্রুপের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হলে আগামী মাস থেকেই গ্রাহক ও ডিস্ট্রিবিউটরদের পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীন।
গত বৃহস্পতিবার মতিঝিল সিটি সেন্টারের স্বপ্ন শহর প্রোপার্টিজ লিঃ এর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এসময় তার আইন উপদেষ্টা এডভোকেট হেলাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
একই সঙ্গে তিনি ডেসটিনি গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ, সম্পদ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
রফিকুল আমীন বলেন, উচ্চ আদালতে দুটি মামলা চলমান থাকলেও মানুষের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তিনি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। চলতি মাসে অনুমতি পেলে আগামী মাস থেকেই গ্রাহক ও ডিস্ট্রিবিউটরদের টাকা ফেরত দেওয়ার কাজ শুরু করতে পারবেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এ জন্য ডেসটিনির সম্পদ, স্থগিত ব্যাংক হিসাব এবং ব্যবসা পরিচালনার বৈধ সুযোগ তাঁর তত্ত্বাবধানে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান তিনি।
ডেসটিনি দখলের অভিযোগ:
রফিকুল আমীন অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে তাঁকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, তৎকালীন যুবলীগ নেতা প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া-সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ডেসটিনির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রেও তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হয়। এমনকি ডেসটিনির কার্যালয়ের ৩০০ ফুটের মধ্যে না যাওয়ার জন্য তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
রফিকুল আমীনের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের কারণে লাখো ডিস্ট্রিবিউটর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তাঁর দাবি, এসব ঘটনার কারণে তিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
বৈশাখী টেলিভিশন নিয়ে তার অবস্থান:
ডেসটিনির পাশাপাশি বৈশাখী টেলিভিশনের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন রফিকুল আমীন।
তিনি দাবি করেন, ব্যক্তিগতভাবে ৬১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বৈশাখী টেলিভিশনের ৯৮ শতাংশ শেয়ার কিনেছিলেন। পাশাপাশি প্রাইম ব্যাংকের ৩১ কোটি টাকার দেনাও পরিশোধ করেছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পদ ও পরিচালনা নিয়ে চলমান বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নিজের বিনিয়োগে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনী লড়াই করার কথাও জানান তিনি।
পাওনা ফেরতের অপেক্ষায় ডিস্ট্রিবিউটররা:
ডেসটিনির সাবেক ও বর্তমান ডিস্ট্রিবিউটরদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অনেকেই তাঁর এই ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রত্যাশা:
ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রত্যাশা, ডেসটিনি গ্রুপের সম্পদ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে চলমান জটিলতার সমাধান হলে তাঁদের পাওনা ফেরতের পথ তৈরি হবে।
তবে অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘোষণা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসা পরিচালনার অধিকার নিয়ে আইনি জটিলতার নিষ্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিন ধরে ডেসটিনি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত লাখো মানুষের প্রত্যাশা, সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ ও কার্যক্রমের বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও ডিস্ট্রিবিউটররা তাঁদের পাওনা ফেরত পাবেন।