ডেসটিনি চালুর সুযোগ দিন, ২ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করব: ড. রফিকুল আমিন

সময়ের চিত্র রিপোর্ট:

ডেসটিনি গ্রুপের ব্যাংক হিসাব খুলে দিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমিন। তিনি বলেছেন, ডেসটিনির কার্যক্রম চালুর সুযোগ দেওয়া হলে ২ কোটি বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন তিনি।

 

শনিবার (২ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মহাখালীতে বৈশাখী টেলিভিশন ভবনের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় স্বপ্ন শহর প্রোপার্টিজ লিঃ আইন উপদেষ্টা এডভোকেট হেলাল উদ্দিন সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ড. রফিকুল আমিন বলেন, এ মাসে ডেসটিনির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হলে আগামী মাস থেকেই গ্রাহক ও ডিস্ট্রিবিউটরদের পাওনা অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করবেন। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো ব্যাংকঋণের দায় নেই।

 

তিনি অভিযোগ করেন, ডেসটিনি গ্রুপকে পরিকল্পিতভাবে দখল করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈশাখী টেলিভিশনে ১১৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হচ্ছেন তিনি।

 

ড. রফিকুল আমিন বলেন, ডেসটিনি গ্রুপের সব সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে জব্দ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ৪৩ লাখ বিনিয়োগকারী দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তাঁদের অর্থ ফেরতের অপেক্ষায় রয়েছেন। সরকার আন্তরিক হলে আগামী মাস থেকেই বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব। তাঁর অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র আদালতকে ভুল বুঝিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দখল করেছে।

 

বৈশাখী টেলিভিশনের মালিকানা গ্রহণের প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, শুরুতে ১৯ কোটি টাকায় ৫০ শতাংশ শেয়ার কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে আরটিভির মালিকের কাছ থেকে দুই দফায় ৪ কোটি ও ৩ কোটি টাকায় শেয়ার কেনেন তিনি। মূল শেয়ারহোল্ডার সাঈদুল্লাহর কাছ থেকে লিখিত সম্মতি নিয়ে মোট ৯৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা অর্জন করেন।

 

তিনি জানান, ওই সময় বৈশাখী টেলিভিশনের নামে প্রাইম ব্যাংকে ৩১ কোটি টাকার দায় ছিল এবং শেয়ার সার্টিফিকেটও জব্দ ছিল। আজম জে চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩১ কোটি টাকা পরিশোধ করে শেয়ার সার্টিফিকেট ফেরত আনেন। ২০০৯ সালের ২৯ জুন শেয়ার হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। এ ছাড়া সাঈদুল্লাহকে অতিরিক্ত ১২ কোটি টাকাসহ মোট ৬১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়।

 

ড. রফিকুল আমিনের দাবি, পরবর্তী সময়ে বৈশাখী টেলিভিশনকে এইচডিতে রূপান্তরের জন্য ৪০ কোটি টাকার ক্যামেরা ও প্রযুক্তি সরঞ্জাম কেনা হয়। পাশাপাশি ১৭ কোটি টাকা বেতন-ভাতা এবং ৫ কোটি টাকা এফডিআর খাতে ব্যয়সহ প্রতিষ্ঠানটিতে তাঁর মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১৭ কোটি টাকা।

 

নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তিনি বলেন, মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ বন্দুকের মুখে শেয়ার লিখে নেওয়া হয়েছিল। অথচ বৈশাখী টেলিভিশনের মালিকানা হস্তান্তর সম্পন্ন হয় ২০০৯ সালের ২৯ জুন। বনানী থানার তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই মামলাটিকে ভুয়া বলেছেন ।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলায় আসামি হওয়ার আশঙ্কায় তাঁর বন্ধুবান্ধবরাও তাঁর পক্ষে কথা বলতে সাহস পান না। এমনকি শুধু তাঁকে নিমন্ত্রণ করার কারণে তাঁর এক বন্ধুকে দুই বছর কারাভোগ করতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

নিজের প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে ড. রফিকুল আমিন বলেন, ২০০৬ সালেই অর্থ আত্মসাৎ বন্ধে প্রতিষ্ঠানে ইআরপি (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং) সিস্টেম চালু করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চোর কখনো নিজের ঘরে সিসি ক্যামেরা লাগায় না।’

 

স্বপ্ন শহর প্রোপার্টিজের ধারণা কীভাবে এসেছে, তা তুলে ধরে তিনি বলেন, এক পুলিশ কনস্টেবলের ‘ছয়শ টাকায় ফ্ল্যাট, এটা কি স্বপ্ন?’—এমন প্রশ্ন থেকেই এ ধরনের আবাসন প্রকল্পের চিন্তা আসে।

 

বিনিয়োগকারীদের অর্থের হিসাব তুলে ধরে তিনি জানান, ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ইন্ডিপেনডেন্ট ও ১৭ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে সংগৃহীত প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং সমবায় সমিতির সাড়ে ৮ লাখ সদস্যের ১ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা দিয়ে ২৬টি কোম্পানি গঠন করা হয়েছিল।

 

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন ড. রফিকুল আমিন। দাবিগুলো হলো—হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি, জব্দ থাকা ৩০০ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া এবং নিরপেক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

 

এই বিভাগের আরো খবর