সময়ের চিত্র ডেস্ক:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নবম দিনেও অব্যাহত রয়েছে। এদিন চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ মিছিল করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শাটডাউন কর্মসূচিও চলছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি বের হয়। এতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা চোখে কালো কাপড় বেঁধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, টানা নয় দিন ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের দাবির বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদেই প্রতীকীভাবে চোখে কালো কাপড় বেঁধে তারা মিছিল করেছেন।
এদিকে নবম দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতিও অব্যাহত রয়েছে।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলেও প্রশাসনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রতিবাদ হিসেবে চোখে কালো কাপড় বেঁধে তারা এই কর্মসূচি পালন করেছেন।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরতে পারছেন না তারা। দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে চলমান সংকটের সমাধান এবং শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক ছাত্রী বলেন, নয় দিন ধরে কর্মসূচি চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ না আসায় প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে চোখে কালো কাপড় বাঁধার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাদের মূল দাবি অধ্যাপক সায়েমকে পুনরায় চুয়েটের উপাচার্য পদে বহাল করা।
যেভাবে শুরু আন্দোলন
গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। পরে ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই দিনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে শাটডাউন এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
আন্দোলনের মধ্যেই ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দ্রুত ক্যাম্পাসে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতির সমাধানের কথা জানিয়েছিলেন। তবে বুধবার পর্যন্ত তিনি চুয়েট ক্যাম্পাসে যাননি।
এদিকে গত নয় দিনে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউনের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এর ধারাবাহিকতায় ২৯ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের অষ্টম দিনে মুখোশ মিছিল ও পরিচয়পত্র প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করা হয়।