জাহিদ হাসান, ঢাকা:
১৬ বছরের বকেয়া আইনগত পাওনা পরিশোধ, শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন গ্রামীণফোনের শ্রমিকরা।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টায় ‘গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে গ্রামীণফোনের শ্রমিকরা তাদের আইনগত ও ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৩৪ ও ২৪০ অনুযায়ী বিলম্বজনিত আইনগত পাওনার পরিমাণ বর্তমানে প্রত্যেক শ্রমিকের ক্ষেত্রে প্রায় ৩৩,১৪৭ কোটি টাকা।
তারা জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে শ্রমিকরা কর পরিশোধের পর মাত্র ১০ কোটি টাকা গ্রহণের সমঝোতা প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের দাবি, এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্র প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কর রাজস্ব অর্জন করতে পারবে এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, গত ১৯ মাস ধরে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করলেও সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। বরং আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানির ঘটনা ঘটছে।
সমাবেশে সম্প্রতি দায়ের করা রিট পিটিশন নং-৮৪৬৪/২০২৬ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তাদের দাবি, এই রিটের কারণে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর Workers’ Profit Participation Fund (WPPF) এবং Workers’ Welfare Fund (WWF)-সংক্রান্ত আইনি কাঠামো নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। এতে শুধু গ্রামীণফোন নয়, দেশের শিল্পখাতের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শ্রমিকদের অর্জিত অধিকারও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন, “বাংলাদেশের শ্রম আইন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়; বরং দেশের সমগ্র শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত।”
সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের ন্যায্য আইনগত পাওনা দ্রুত পরিশোধ, শ্রম আইন বাস্তবায়ন, চলমান হয়রানি বন্ধ এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।