কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে

অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও প্রচারে কঠোর আইন, দ্রুত বিচার

স্টাফ রিপোর্টার:

‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে সাধারণ মানুষের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। নতুন প্রণীত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর আওতায় এ ধরনের অপরাধে দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, এ আইনের অধীনে দায়ের হওয়া অভিযোগের তদন্ত সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কিছু ব্যক্তি ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে সাধারণ মানুষের ভিডিও ধারণ করে তা বিকৃত বা কুরুচিপূর্ণভাবে প্রচার করছে। এমনকি এসব ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল বা অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। এসব অনিয়ম ঠেকাতে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে ব্ল্যাকমেইল, যৌন হয়রানি বা ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে শাস্তি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি ভিডিওর ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করলে তা সাইবার প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে, যার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

অনলাইনে আপত্তিকর বা ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের জন্য জাতীয় সাইবার সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ অপরিস্থিতিতে দ্রুত অভিযান চালাতে পারবে।

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল ফরেনসিক সুবিধা গড়ে তোলার কথাও জানান মন্ত্রী। এর মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সহজ হবে। এছাড়া বিদেশে অবস্থান করে সংঘটিত সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর