সময়ের চিত্র ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সহায়তার কাজে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) সদস্যদের সম্পৃক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। দলটির মতে, শিক্ষার্থী হওয়ায় বিএনসিসি ক্যাডেটদের এ ধরনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করলে তারা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিতর্কের মুখে পড়তে পারে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও দাবি তুলে ধরে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার বিএনসিসি সদস্যকে ভোটগ্রহণে সহায়তার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের কথা ইসি সচিব জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
বৈঠক শেষে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনসিসি ক্যাডেটরা মূলত শিক্ষার্থী। সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক কার্যক্রমে তাদের যুক্ত করা যুক্তিসংগত নয়। এটি ভবিষ্যতে ছাত্রসমাজ ও প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করে তুলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, একবার এ নজির তৈরি হলে পরে স্কাউটস বা গার্লস গাইডদের যুক্ত করার দাবিও উঠতে পারে। বিএনপির মতে, আইন অনুযায়ী যাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে স্বীকৃতি রয়েছে, নির্বাচনের দায়িত্ব কেবল তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন দলটির বক্তব্যের যৌক্তিকতা স্বীকার করেছে বলে তিনি জানান।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, কমিশন বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
এছাড়া নির্বাচনের সময় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার নামে কোনো কোনো এলাকায় তথাকথিত ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের আলোচনা নিয়েও উদ্বেগ জানায় বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘শান্তি কমিটি’ শব্দটি আমাদের কাছে অস্বস্তিকর। তবে ইসি জানিয়েছে, তারা এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে বহিরাগতদের নির্বাচনি এলাকা ত্যাগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকার বাইরে গিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন, যা ভোটের আগে বিশৃঙ্খলার কারণ হতে পারে।
নির্বাচনি প্রচার শেষ হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাইরের ভোটার বা কর্মীদের সেখানে অবস্থান অনুচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, কমিশন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
বৈঠকে অনুমোদিত নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়েও প্রশ্ন তোলে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান জানান, ইসি ৮১টি দেশীয় সংস্থার প্রায় ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষক অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান খুব পরিচিত নয়। তিনি বলেন, পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠানকেই পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া উচিত।
একই সঙ্গে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও কমিশনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে বিএনপি অভিযোগ করে, গত এক থেকে দেড় বছরে ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক হারে ভোটার স্থানান্তর হয়েছে। কিছু হোল্ডিংয়ে বসবাসকারীর তুলনায় অনেক বেশি ভোটার থাকার অভিযোগও তোলা হয়।
এ বিষয়ে ইসি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রকৃত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া কমিশনের দায়িত্ব।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটার আইডি ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নম্বর সংক্রান্ত অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাই ভুয়া ভোটার ও ভোটার স্থানান্তরের পেছনে থাকতে পারে।
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের কিছু ঘটনা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করছে বলেও অভিযোগ করে বিএনপি। উদাহরণ দিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, কিছু বক্তৃতায় ধর্মীয় বিশ্বাসের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ভোটার প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর করার পাশাপাশি বিচারিক অনুসন্ধান কমিটির তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানায় দলটি।