সময়ের চিত্র ডেস্ক:
গাজাবাসীর জন্য মানবিক ত্রাণ বহনকারী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’কে বাধা দিয়েছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। আটক করা হয়েছে কয়েকটি জাহাজ এবং সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ যাত্রীদের ইসরায়েলের বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এখনও কয়েকটি নৌযান গাজার উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নৌবহরের জাহাজগুলো “সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি চলে আসায়” তাদের থামানো হয়েছে। অপরদিকে, ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে—ইসরায়েলি বাহিনী জাহাজে উঠে হামলা চালিয়েছে, জলকামান ব্যবহার করেছে এবং একটি নৌকাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা বলছে, এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে ফ্লোটিলা জানায়, তাদের ৩০টি নৌকা তখনও গাজার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এবং তারা গন্তব্য থেকে প্রায় ৪৬ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল। যদিও পরবর্তীতে কয়েকটি প্রধান জাহাজ আটক করা হয়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানানো হয়েছে। গ্রিস, ইতালি, জার্মানি, তিউনিসিয়া ও তুরস্কে বিক্ষোভ হয়েছে। ইতালির শ্রমিক সংগঠনগুলো শুক্রবার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” বলে আখ্যা দিয়েছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো ইসরায়েলি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে এটিকে “আন্তর্জাতিক অপরাধ” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আইরিশ উপ-প্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস জানিয়েছেন, নৌবহরে অন্তত সাতজন আইরিশ নাগরিক রয়েছেন এবং তিনি আশা করেন ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলবে। ফ্রান্স ও ইতালিও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করছে যে ফ্লোটিলা তাদের বৈধ নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছে এবং সাহায্য সরাসরি হামাসের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, গাজায় খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছাতে ইসরায়েল ক্রমাগত বাধা দিচ্ছে এবং এ কারণেই দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, গাজা সিটিতে ইসরায়েলের হামলা আরও জোরদার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে হামাসের প্রতিক্রিয়া শিগগিরই জানা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী গাজার বাসিন্দাদের দক্ষিণে চলে যেতে চূড়ান্ত সতর্কতা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস জানিয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্র যেখানেই হোক, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে হবে।