গাজামুখী ফ্লোটিলায় ইসরায়েলি হামলা, বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও বিক্ষোভ

সময়ের চিত্র ডেস্ক:
গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা-তে ইসরায়েলি হামলা ও কর্মীদের আটকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে, আর সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইসরায়েলের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে।

বুধবার গভীর রাতে ইসরায়েলি নৌবাহিনী অন্তত ১৩টি জাহাজ আটক করে এবং দুই শতাধিক মানবাধিকারকর্মীকে ইসরায়েলের বন্দরে নিয়ে যায়। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, আর্জেন্টিনার সংসদ সদস্য সেলেস্ট ফিয়েরো এবং ১২ জন মালয়েশীয় নাগরিক। আটককৃতদের সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গেছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের আটক করে ইসরায়েল মানবতার প্রতি চরম অবজ্ঞা দেখিয়েছে। তিনি এটিকে “ভীতি প্রদর্শন ও জবরদস্তি” হিসেবে আখ্যা দেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে “ফ্যাসিবাদী নীতি”র বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেছে এবং আটক তুর্কি নাগরিকদের মুক্তির জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস একে “শান্তিপূর্ণ মানবিক উদ্যোগের ওপর আক্রমণ” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ফ্লোটিলায় থাকা আইরিশ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ফরাসি সদস্য এমা ফুরো, যিনি ফ্লোটিলার একটি জাহাজে ছিলেন, বৈশ্বিক প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, “ইসরায়েলকে অবরুদ্ধ করো, বৈশ্বিক অর্থনীতিকে চাপের মুখে ফেলো, গাজার অবরোধ ও গণহত্যা বন্ধ করো।”

ঘটনার পরপরই স্পেন, ইতালি, জার্মানি, তুরস্ক, গ্রিস, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো ও কলম্বিয়াসহ নানা দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়। বুয়েন্স আয়ার্সে আটক কর্মীদের মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নামেন আন্দোলনকারীরা। আঙ্কারা, মাদ্রিদ, মেক্সিকো সিটি ও বোগোটাতেও ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেন।

অন্যদিকে, ফ্লোটিলার আয়োজকরা জানিয়েছেন—ইসরায়েলের বাধা সত্ত্বেও তাদের মানবিক মিশন বন্ধ হবে না। গাজার মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

এই বিভাগের আরো খবর