গণতন্ত্র হত্যা করে বাপ–বেটি দেশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে: নাজিম উদ্দিন আলম

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:

ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম বলেছেন, “ গণতন্ত্র হত্যা করে বাপ–বেটি দেশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। সকল দল নিষিদ্ধ করে তার বাবা শেখ মুজিব একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। ঠিক একইভাবে শেখ হাসিনা একই কায়দায় দেশ পরিচালনা করেছেন।”

 

তিনি আরও বলেন, “শেখ মুজিব রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিলেন। একইভাবে শেখ হাসিনা ‘আয়না ঘর’ বানিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে।”

 

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাত দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভোলার চরফ্যাশনে বিএনপি আয়োজিত শোভাযাত্রা ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

 

নাজিম উদ্দিন আলম বলেন, “শেখ হাসিনা বলেছেন, শেখের বেটি পালায় না। কিন্তু তিনি পালিয়েছেন, এটাই বাস্তবতা। স্বৈরশাসনের কারণে জনগণ তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন তিনি ভারতে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।”

 

তিনি আরও বলেন, বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আপোষহীন সংগ্রামী প্ল্যাটফর্ম। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে প্রতিটি নেতাকর্মীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

 

নাজিম উদ্দিন আলম ঘোষণা দিয়ে বলেন, “আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই, দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই। আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। এ নির্বাচনকে ঘিরে কোনো মহলের ষড়যন্ত্র হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে।”

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম মিন্টিজ, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আশরাফুর রহমান দিপু ফরাজি, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক গোলাম আকতার মইন, যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম দুলাল, উপজেলা ওলামা দলের নেতা সাবেক চেয়ারম্যান হাজী রফিক আছলামি, শ্রমিক দলের সভাপতি মীর আজাদ, উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি আলী মুরতুজা, সাধারণ সম্পাদক জাহানসহ অনেকে।

 

কর্মসূচিতে নাজিম উদ্দিন আলমের নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন ব্যানার–ফেস্টুন নিয়ে রঙিন পোশাকে অংশ নেন। বাদ্যের তালে তালে স্লোগানে শোভাযাত্রা পুরো শহর মাতিয়ে তোলে।

 

শোভাযাত্রাটি বিকেলে চরফ্যাশনের মদন সড়কে দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, ওলামা দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর