বাঞ্ছারামপুরে বদলে যাচ্ছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল

সেবা ও সৌন্দর্যবর্ধনে নতুন উদ্যোগ, স্বস্তি বাড়ছে রোগীদের

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, জরুরি বিভাগের পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্যবর্ধনে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. রঞ্জন বর্মন দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব উদ্যোগ আরও জোরদার হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তাঁর তদারকিতে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি রোগীবান্ধব পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।

সম্প্রতি হাসপাতালটি ঘুরে দেখা যায়, প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই আগের তুলনায় গোছানো পরিবেশ চোখে পড়ে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে নান্দনিক পরিবর্তন। দেয়ালে ব্যবহার করা হয়েছে সবুজ কৃত্রিম ঘাসের সাজসজ্জা। আলোকসজ্জার সঙ্গে স্থাপন করা হয়েছে ‘জরুরি বিভাগ’ এবং ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বাঞ্ছারামপুর’ লেখা ডিজিটাল সাইনবোর্ড। টেবিল, নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীও রাখা হয়েছে সুশৃঙ্খলভাবে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন বলেন, আগে হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে অনেকের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা ছিল। এখন প্রবেশের পর পরিবেশ অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ও গোছানো মনে হয়। এতে রোগী ও স্বজনদেরও মানসিক স্বস্তি বাড়ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, এখানে ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে বিভিন্ন প্যাথলজি পরীক্ষার সুবিধাও রয়েছে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। এতে একদিকে রোগীদের আস্থা বাড়বে, অন্যদিকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে মানুষের ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন বর্মন বলেন, সরকারি হাসপাতাল থেকেই বাঞ্ছারামপুরের মানুষকে সর্বোচ্চ ও মানসম্মত সেবা দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। রোগীরা যেন হাসপাতালে এসে স্বস্তি অনুভব করেন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশ উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালকে আরও জনবান্ধব ও দালালমুক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চলমান উদ্যোগগুলো ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাঞ্ছারামপুর ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ভবিষ্যতে একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও রোগীবান্ধব সরকারি হাসপাতালের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।

এই বিভাগের আরো খবর