১৭ বছরে আওয়ামী লীগ দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

ভোলা প্রতিনিধি:

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাবেই বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে দেশকে।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলা শহরের নতুন বাজার চত্বরে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। অতীতের ক্ষতি কাটিয়ে দেশকে আবার অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে।

ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই সেতু ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। সেতু বাস্তবায়নের দাবিতে ভোলার মানুষ বিভিন্ন সময় আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করেছে। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, ভোলা থেকে হিজলা-মুলাদী হয়ে শরীয়তপুরের পথে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা গেলে যাতায়াতের সময় আরও কমে আসবে। সেতু নির্মাণের বিষয়ে সরকার বিভিন্ন বিকল্প ও বাস্তবসম্মত দিক পর্যালোচনা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভোলার মানুষকে এ ইস্যুতে বিভ্রান্ত বা বিভক্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পার্থ বলেন, সবাই ভোলার উন্নয়ন চায়। কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে ভোলার মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি সুফল আসবে, সে বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সরকার নির্ধারণ করবে। তাই সেতু নিয়ে বিভাজন সৃষ্টি না করে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়নের পক্ষে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর বাবা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জু ২০০৬ সালে মারা যাওয়ার পর তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে আসেন। এরপরের সময়টি তাঁর জীবনের কঠিন অধ্যায় ছিল। মঈনউদ্দীন-ফখরুদ্দীন সরকারের সময়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতাকর্মীদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন ও প্রতিকূলতা নেমে এসেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পার্থ বলেন, রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের সুযোগ থাকলেও তিনি সেগুলো গ্রহণ করেননি। বরং জেল-জুলুমসহ নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে রাজনীতি করে গেছেন।

এর আগে ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ভোলা খেয়াঘাটে পৌঁছান তথ্যমন্ত্রী। সেখানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) জেলা সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম রতনের নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মীরা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর