কক্সবাজার প্রতিনিধি:
টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে।
রোববার (১২ জুলাই) জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানান, চলমান দুর্যোগে প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বারবার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
শনিবার রাতে কক্সবাজার শহরের ঝিলংজা ইউনিয়নের পূর্ব কলাতলী এলাকায় পাহাড়ধসে রোজিনা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হন। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা তাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলিরপাড়া এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে ১৯ মাস বয়সী মুশফিকুর রহিম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অগোচরে সে পানিতে পড়ে গেলে পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান, তবে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রশাসনের তথ্যমতে, চলমান দুর্যোগে এ পর্যন্ত পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে মোট ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৭ জন রোহিঙ্গা রয়েছেন।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় সহায়তা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে মত দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে জোরপূর্বক লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও চলছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আগামী কয়েকদিন মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সবাইকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা ও বন্যার পানিপ্রবণ স্থান এড়িয়ে চলা এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।