সময়ের চিত্র ডেস্ক:
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মামলার প্রথম দিনে আদালতে উপস্থিত হয়ে নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে এসে তিনি বলেন, তার একমাত্র প্রত্যাশা হলো মেয়ের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা। তিনি এমন শাস্তির দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখি হতে না হয়।
আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, “আমার সন্তানের ওপর যে নির্মমতা চালানো হয়েছে, তার ন্যায়বিচার চাই। একই সঙ্গে বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন ও রায় কার্যকর করার দাবি জানাই।”
মামলার প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে বাদীপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে রয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, চিকিৎসক, জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট এবং স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেশী।
এদিকে মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে তাদের আদালতের এজলাসে তোলা হয়।
এর আগে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছে।
গত ১৯ মে পল্লবীর একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। পরে মামলায় তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকেও আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে পুলিশ দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্র গ্রহণের পর মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব চলমান রয়েছে।