ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী 

সময়ের চিত্র ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশের জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার বাসিন্দাদের জন্য এই কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী জুন ২০২৬ পর্যন্ত পানিসম্পদ, স্থানীয় সরকার ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ১২০৪ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আরও ১৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পরিবেশ সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে প্রায় দেড় কোটি চারা উৎপাদন করা হয়েছে, যা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে।

শিক্ষা খাতেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের কাজ চলছে। পাশাপাশি ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে হাজারো প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্রীড়া ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় নির্দিষ্ট পরিমাণ জমিতে খেলার মাঠ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাই-টেক পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং দেশে পেপাল সেবা চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ৫০০ জনকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে পড়াশোনার ঋণ সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে, বিশেষ করে জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।

জ্বালানি খাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে রুফটপ সোলার ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে।

এছাড়া সরকারি চাকরিতে নিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধীন সংস্থায় শূন্য পদ পূরণে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর