সময়ের চিত্র ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে ৩৫ হাজারেরও বেশি নাবিক ও যাত্রী জাহাজে আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংস্থাটির মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ জানান, সংঘাতের কারণে সমুদ্রপথে চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে প্রায় ২০ হাজার নাবিক এবং ১৫ হাজার যাত্রী বিভিন্ন জাহাজে অবস্থান করলেও তারা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত নাবিক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশ ও শিপিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে আইএমও।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনার পর উপসাগরীয় এলাকায় জাহাজকে ঘিরে অন্তত সাতটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় দুইজন নিহত ও অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
আইএমও মহাসচিব বলেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি একটি মানবিক সংকটও তৈরি করছে। নিরীহ নাবিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান কার্যত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। বিশ্বে সরবরাহ হওয়া অপরিশোধিত তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই নৌপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
পরিস্থিতির কারণে ডেনমার্কভিত্তিক বড় শিপিং প্রতিষ্ঠান মার্স্কসহ কয়েকটি কোম্পানি সাময়িকভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন বুকিং বন্ধ রেখেছে।
জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, গত সপ্তাহের তুলনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।
এদিকে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে তেলবাহী জাহাজের চলাচল সচল রাখতে প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনীকে নিরাপত্তা সহায়তা দিতে নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।