গুম–খুনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে থাকবে বিএনপি : তারেক রহমান

স্টাফ রিপোর্টার:

গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচারের মাধ্যমে বিএনপিকে দমন করা যাবে না এবং দলটি কখনোই কৌশলের নামে গোপন বা দ্বৈত ভূমিকা নেয়নি।

শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর যৌথ আয়োজনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান মঞ্চে উঠে কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। স্বজনহারা মানুষের কান্নাজড়িত বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে থাকবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কাজ করবে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেড় লাখের বেশি মামলা দেওয়া হয়েছিল, যার প্রভাব পড়েছে প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর ওপর। এরপরও আন্দোলন থেকে সরে যায়নি দলটি। এক পরিবারের একজন নির্যাতনের শিকার হলে আরেকজন রাজপথে নেমে এসেছে—এটাই বিএনপির সংগ্রামের ইতিহাস।

তারেক রহমান বলেন, এখনো কেউ কেউ নানা অজুহাতে গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করতে চায়। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদের সামনে একটি মানবিক, দায়িত্বশীল ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ হাতছাড়া হলে তা শহীদদের আত্মত্যাগের অবমাননা হবে।

তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের কিছু বাধ্যবাধকতার কারণে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে বিএনপির বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে কমিশনের সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত অবস্থান সত্ত্বেও বিএনপি একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে।

নিজের দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বহু বছর পরিবার ও দেশ থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। তবুও দূর থেকেই তিনি নেতাকর্মী ও স্বজনহারা মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।

তিনি বলেন, অতীতের সব অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে হলে ভবিষ্যতে অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ’৭১-এর শহীদ, ’৯০-এর আন্দোলনের শহীদ, বিগত ১৬ বছরে গুম ও নির্যাতনের শিকার মানুষ এবং ’২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সম্মানিত হবে, যখন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্র কখনো শহীদদের ভুলে যেতে পারে না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে শহীদ পরিবারগুলোর নামে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনার নামকরণসহ রাষ্ট্রীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করতে পারে।

তিনি বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার একমাত্র পথ হলো জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা। আসুন, আমরা ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম অব্যাহত রাখি, যাতে কোনো ষড়যন্ত্র এই যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, রুহুল কবির রিজভীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভাপতিত্ব করেন আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন। সঞ্চালনায় ছিলেন সানজিদা ইসলাম তুলি, জাহিদুল ইসলাম রনি ও মোকসেদুল মোমিন মিথুন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি মহল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। বিএনপির ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাবার সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা ও সমতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর