মেহেরপুরে বেড়েই চলেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ট্রান্সফরমার চুরি, ভোগান্তিতে সাধারণ গ্রাহক

মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় বারাদি ইউনিয়নের নতুন দরবেশপুরের মাঠে তিনটি ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দিবাগত রাতে সংঘবদ্ধ চোরচক্র এ চুরির ঘটনা ঘটায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

 

গত (১৪) ডিসেম্বরে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গাংনী জোনাল অফিস আওতায় জালশুকা গ্রামে একই মাঠে ৬ টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। একই সমিতির আওতায় পাশের জেলা চুয়াডাঙ্গায় একই পোল থেকে ৩ টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এভাবে প্রতিনিয়ত চুরির ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের। পল্লী বিদ্যুৎ আফিসে গেলে সরকারি নিয়ম হলো চুরি হলে গ্রাহকে ট্রান্সফরমার নিজে ক্রয় করে আবার লাগাতে হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেচ পাম্প মালিক। ফলে থানায় সাধারণ ডাইরি করলেও প্রসাসন যেন নিরব ভুমিকা পালন করছে।

 

জানা গেছে, গভীর রাতে চোরচক্রটি মাঠে স্থাপিত তিনটি ট্রান্সফরমারের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যায়। এতে করে ওই এলাকার আবাদি জমিতে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরির ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।অনেকে ট্রান্সফরমার কিনতে না পেরে সময়মতো জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে চলতি মৌসুমে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা ।এর ফলে সাধারণ চাষীদের লক্ষ লক্ষ টাকার সবজি ও ধান ক্ষেতে সেচ না দিতে পেরে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

 

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত চুরি যাওয়া যন্ত্রাংশ উদ্ধার ও দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এবং প্রত্যেক এলাকায় যেন পল্লী বিদ্যুৎ এর অফিসারেরা মাইকিং বা মাঠ বৈঠক মাধ্যমে সচেতন গড়ে তুলে ধরার দাবি। যাতে চোরকে আটক করা যায় এবং সমাজের মানুষ সচেতন হতে পারে। এবং রাতে পল্লী বিদ্যুৎ থেকে টহল টিম দিতে হবে। এভাবে সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হাত থেকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। চাষিরা বাঁচলে বাঁচবে দেশ, চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশ ও জাতি হবে ক্ষতিগ্রস্ত।

এই বিভাগের আরো খবর