সারাদেশে ৭৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

সময়ের চিত্র ডেস্ক :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাচাই-বাছাই শেষে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদসহ মোট ৭৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ভুল তথ্য প্রদান, মামলাজনিত জটিলতা, স্বাক্ষর জালিয়াতি, সম্পদের তথ্য অসম্পূর্ণতা ও দ্বৈত নাগরিকত্বসহ নানা কারণে এসব মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

শুক্রবার দেশের বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে কমিশনে আপিল করতে পারবেন। এসব আপিলের শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর জানা যাবে কোন কোন দল ও কতজন প্রার্থী নির্বাচনে থাকছেন। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।

বগুড়া

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ও জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মান্নার হলফনামায় তথ্যগত অসামঞ্জস্য এবং জিন্নাহর ক্ষেত্রে সম্পদের নির্ধারিত ফরম দাখিল না করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই আসনে আরও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

এছাড়া বগুড়া-১ ও বগুড়া-৩ আসনেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের একাধিক মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

কক্সবাজার

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থী এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন মামলাসংক্রান্ত নথিপত্র যথাযথভাবে উপস্থাপন না করায় বাতিল করা হয়। একই আসনে আরও এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে মোট ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে কোথাও মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর পাওয়া গেছে, আবার কোথাও যাচাইকৃত ভোটাররা স্বাক্ষর প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এসব কারণে স্বতন্ত্র, বিএনপির বিদ্রোহী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হয়।

কুমিল্লা, ফরিদপুর ও পাবনা

কুমিল্লার দুইটি আসনে জামায়াত, ইসলামী ফ্রন্ট, স্বতন্ত্র ও কল্যাণ পার্টির একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ফরিদপুর-৩ ও পাবনা-১ আসনেও বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।

উত্তরাঞ্চল

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও সদর আসনে জামায়াত, সিপিবি, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট আট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। কুড়িগ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল ও স্থগিতের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগও উঠে এসেছে।

অন্যান্য জেলা

যশোর, টাঙ্গাইল, রংপুর, মুন্সীগঞ্জ, বরিশাল, ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও খুলনার বিভিন্ন আসনে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। কয়েকটি আসনে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও দেওয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর