আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম :
কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে দিন দিন বাড়ছে শীতের তীব্রতা। আনুষ্ঠানিকভাবে শৈত্যপ্রবাহ শুরু না হলেও হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশা আর রাতভর বৃষ্টির মতো ঝরা শিশিরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) কুড়িগ্রাম জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ, যা শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নদনদী বেষ্টিত চরাঞ্চলগুলোতে শীতের প্রকোপ যেন কয়েকগুণ বেশি। কুড়িগ্রামের ১৬টি নদীর তীরে বিস্তৃত ৪৬৯টি চরের মধ্যে ২৬৯টিতে মানুষের বসবাস রয়েছে। এসব চরে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ বসবাস করেন। হিমেল বাতাস আর কনকনে ঠান্ডায় চরবাসীরা ঘরবন্দি হয়ে পড়ছেন, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা।
কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল গফুর জানান, তার ইউনিয়নের লোকসংখ্যা প্রায় ৩৬ হাজার। এর মধ্যে তিন ভাগের দুই ভাগ মানুষ ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে বসবাস করেন। ইউনিয়নে প্রায় ২০টি চর রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ শীতের চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি সহায়তা হিসেবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০০টি কম্বল পাওয়া গেছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। শীতার্ত মানুষদের নিয়ে তিনি মহাবিপাকে পড়েছেন বলেও জানান।
এদিকে শীতের প্রভাব পড়েছে দিনমজুর শ্রেণির মানুষের জীবনেও। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে অনেকেই কাজে যেতে পারছেন না। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের দিন কাটছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। এ ছাড়া শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। জেলা সদর হাসপাতালসহ নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই বাড়ছে সর্দি–কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, ডিসেম্বরের শেষদিকে কুড়িগ্রাম জেলায় শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ উপজেলায় ৫৪ লাখ টাকার কম্বল কিনে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তবে দুর্গম চরাঞ্চলের শীতার্ত মানুষের হাতে এখনো সরকারি শীতবস্ত্র পৌঁছেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোঃ শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। বিশেষ করে এই শীতে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ চরম কষ্টে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন সীমান্তঘেঁষা কালির আলগা চরের ২০০ জন শীতার্ত মানুষের মাঝে দ্রুত কম্বল বিতরণ করা হবে।