সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান তারেক রহমানের

সময়ের চিত্র ডেস্ক:

ধর্ম, দল, শ্রেণি, পেশা, বয়স ও লিঙ্গভেদ না করে দেশের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সমাজের সবাইকে নিয়ে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব, যাতে প্রতিটি মানুষ নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, দেশের জন্য তার একটি সুস্পষ্ট ‘পরিকল্পনা’ রয়েছে এবং সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায়—১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের কথা তুলে ধরেন।

মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত “আই হ্যাভ আ ড্রিম” বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষকে ঘিরে তার স্বপ্ন ও পরিকল্পনা রয়েছে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, “উই হ্যাভ এ প্ল্যান”—তবে সেই পরিকল্পনার বিস্তারিত তখনও প্রকাশ করেননি।

তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে বলেন, আল্লাহর রহমত ও সহায়তা পেলে দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। তিনি ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা আসবেন, তাদেরকে নবী করিম (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আহ্বান জানান।

দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে আসার সুযোগ পাওয়ায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণের দোয়া ও ভালোবাসার কারণেই তিনি আবার মাতৃভূমিতে ফিরতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন তাদের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায় এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা দেখতে চায়। পাহাড় ও সমতল, নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, ধর্মীয় সংখ্যালঘু—সবাইকে নিয়ে একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

দেশের জনসংখ্যার বড় অংশ নারী, তরুণ, শিশু, কৃষক-শ্রমিক ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী—এই সকল মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহত ওসমান হাদিসহ সব শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে একটি গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তারেক রহমান বলেন, তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে এবং গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গঠনে তাদেরই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর