খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রা আপাতত স্থগিত : মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তার বিদেশযাত্রা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। দীর্ঘ বিমান ভ্রমণের শারীরিক সক্ষমতা না থাকায় মেডিক্যাল বোর্ড বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে আরও সময় নিতে বলেছে।

শনিবার বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন খালেদা জিয়া। চিকিৎসার জন্য কাতার আমিরের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডন নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। প্রথমে কারিগরি কারণে অ্যাম্বুলেন্সটি দেরি হয়, পরে জানানো হয় কাতার থেকে নতুন একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে পাঠানো হবে। তবে সেটির আগমনের সময় এখনো নিশ্চিত নয়।

জাহিদ হোসেন বলেন, “এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকলেও চিকিৎসকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী এই মুহূর্তে তার জন্য দীর্ঘ ফ্লাইট ঝুঁকিপূর্ণ। ১২–১৪ ঘণ্টার উড়োজাহাজ যাত্রায় উচ্চতার কারণে শরীরে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তা একজন সংকটাপন্ন রোগীর জন্য সহনীয় নাও হতে পারে।”

তিনি বলেন, মেডিক্যাল বোর্ডের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সুস্থতা ও নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন জানিয়ে জাহিদ বলেন, “শুধু যখন বোর্ড উপযুক্ত মনে করবে, তখনই তাকে বিদেশে নেওয়া হবে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ছড়ানোর বিষয়ে তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, “দয়া করে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না বা বিভ্রান্তি ছড়াবেন না। দেশবাসীর দোয়াতেই এর আগেও সংকট থেকে তিনি সুস্থ হয়েছেন—আমরা আশাবাদী এবারও আল্লাহর রহমতে তিনি সুস্থ হবেন।”

হাসপাতালে অন্যান্য রোগীর অসুবিধার কারণে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের সহযোগিতায় চিকিৎসা চলছে। অন্য রোগীদের যে অসুবিধা হচ্ছে, তাদের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।”

উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষজ্ঞ বোর্ড তার চিকিৎসা দেখভাল করছে। দলের সিনিয়র নেতা তারেক রহমানের স্ত্রী ও চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমানও বোর্ডের সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়ে শুক্রবার লন্ডন থেকে ঢাকায় এসে শাশুড়িকে দেখতে হাসপাতালে যান।

এই বিভাগের আরো খবর