মেহেরপুর প্রতিনিধি: এন সি পি সংস্কারে এবং সংসদে বাংলাদেশকে ইতিবাচক পরিবর্তন করবে। কিছু রাজনৈতিক দল উদ্ভব হয়েছে রাজনীতিকে এই নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য তারা সংস্কারও চায় না বিচার ও চায়না। অথচ তারা এখন নির্বাচনকে পিছিয়ে দিতে চাচ্ছে।
তারা যদি নির্বাচন চাইতো তাহলে সংস্কার এবং দ্রুত বিচার করতে চাইতো। বিচার ও সংস্কার অতি দ্রুত শেষ করতে চাইত।
মঙ্গলবার (০৮ জুলাই) বিকেল ৫ টায় গাংনী বাসস্ট্যান্ডে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রার সংক্ষিপ্ত পথসভায় এ কথা বলেন এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আগে যারা নেতৃত্ব ছিল তারা দেশ থেকে টাকা পাচার করে বিদেশে আমদ ফুর্তি করেছে তারা নিজেরা আমাদের বড় বড় জ্ঞান দিত নিজের নিজেরা রাজনীতি করত অন্যের ছেলেকে দিয়ে রাজনীতি করা তো নিজের ছেলেকে বিদেশে পড়াতো দুর্নীতির টাকায় বিদেশে পড়াশোনা করে এসে নিজে দেশে এসে নেতা হতো এখন আমাদের সময় এসেছে ভূমি থেকে যারা বেড়ে উঠবে ৫৬ হাজার বর্গমাইলে যাদের উৎপত্তি হয়েছে বিকাশ হয়েছে প্রিয় গাংনীর তরুণ ছাত্র বৃন্দ আমাদেরকে হাইব্রিড নেতাদের থেকে দূরে থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, যেসব নেতারা অন্যের ছেলেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে নিজের ছেলেকে বিদেশে রেখে অন্যের ছেলের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে চামচা বানায় এবং নিজের ছেলেকে নেতা বানায়
আমাদের ওই সকল নেতাদের থেকে সচেতন থাকতে হবে।
কোন মার্কার কাছে আমাদের বিবেককে বন্দী হতে দেব না।
তিনি বলেন, আগামীতে আমরা নেতৃত্ব নির্বাচন করব যোগ্যতা দেখে। কে কতটুকু জনপ্রিয়, জনগণের কাছে যাচ্ছে, জনগণের ভাষা বুঝে, জনগণের সমস্যা বুঝে কতটা বাংলাদেশকে ধারণ করে এসব বিচারে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে এক শ্রেণীর নেতা উৎপাদন হয়, নির্বাচনের আগে বস্তায় বস্তায় টাকা নিয়ে এলাকায় ঢুকে তারা নির্বাচনের আগের রাতে তারা পোলিং এজেন্ট, থানার ওসি এসপিকে কিনে কিনে নেই।
আপনাদেরকে সচেতন হতে হবে, যে নেতা নির্বাচনের আগে টাকা নিয়ে আসবে আগের রাতে কিছু টাকা দেবে আর পাঁচ বছর আপনাকে দিয়ে গোলামি করাবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের যারা নেতৃত্বে আসবে, নির্বাচনের আগে কেউ টাকা দিলে সে আর সেবক থাকবে না সে হয়ে যাবে আপনার মালিক, আপনি হবেন তার দাস।
তিনি বলেন দাঁড়ি পাকা মুরুব্বি যারা আছেন এই বাংলাদেশকে আর অযোগ্য লোকের হাতে তুলে দেবেন না।
রাস্তারনগণের টাকা মেরে যারা বিদেশে হজ করতে যায় তাদের হাতে দেশকে তুলে দেবেন না।
যারা যোগ্য, সৎ এবং বাংলাদেশকে ধারণ করে এই দেশকে তাদের হাতে তুলে দেবেন।
তিনি বলেন, এনসিপি বাংলাদেশ পন্থী একটি জনগণের দল।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি ক্ষমতার উৎস দিল্লি নয়, লন্ডনও নই, ক্ষমতার উৎস বসুন্ধরা নয় ক্ষমতার উৎস এস আলাম বা কোনো ব্যবসায়ী নয়। ক্ষমতার উৎস জনগণ, এবং জনগণ যদি পাশে থাকে তাহলে দিল্লিতে পালাতে হয় না, লন্ডন থাকতে হয় না। জনগণ পাশে থাকলে ৫৬০০০ বর্গ মাইলে জন্ম এবং মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, আমরা পিন্ডির উপরে, দিল্লির উপরে লন্ডনের উপরে বা আমেরিকার উপরে নির্ভর করতে চাই না। আমাদের দেশটাকেকোন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীর কাছে বর্গা দেয়নি। আমরা জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করব আপনাদের দেওয়া ১০ টাকা ২০ টাকা ১০০ টাকা আমরা জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে জনগণের জন্য রাজনীতি করব। যখন রাজনীতিবিদরা ব্যবসায়ীদেরকে তাদের রাজনীতি বন্দুক দেয় তখন ব্যবসায়ীদের মতো করে রাজনীতির পরিচয় ধারণ করতে হয়।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম সত্য বলতে ভয় পাই না।
আমরা তরুণ প্রজন্ম বিশ্বাস করি হয় সাদা না হয় কালো সাদা এবং কালোর বাইরে কোন কিছু নাই। আমাদের আগের প্রজন্ম ভন্ডামিকে নাম দিয়েছে কৌশল মিথ্যাকে নাম দিয়েছে রাজনীতি প্রতারণা কে নাম দিয়েছে স্ট্রাটেজি
তরুণ প্রজন্মকে পরবর্তী বাংলাদেশ গড়তে হবে
আমরা তাদের হাতে দেশটাকে তুলে দিতে পারব না যারা জনগণ বিচ্ছিন্ন। কোন দেশের গুলো আমি কোন দলের গোলামী কোন ব্যক্তির গোলামি করার জন্য এনসিপি তৈরি হয়নি
এন সি পি সংস্কারে এবং সংসদে বাংলাদেশকে ইতিবাচক পরিবর্তন করবো। কিছু রাজনৈতিক দল উদ্ভব হয়েছে রাজনীতিকে এই নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য তারা সংস্কারও চায় না বিচার ও চায়না। অথচ তারা এখন নির্বাচনকে পিছিয়ে দিতে চাচ্ছে।
তারা যদি নির্বাচন চাইতো তাহলে সংস্কার এবং দ্রুত বিচার করতে চাইতো। বিচার ও সংস্কার অতি দ্রুত শেষ করতে চাইত।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তিনি বলেন, দ্রুত বিচারের জন্য আর সময় পার করবেন না। হাসিনার মত হাইকোর্ট দেখাবেন না। হাসিনা হাইকোর্ট দেখিয়ে এখন দিল্লিতে অবস্থান করছে। হাইকোর্ট দেখানোর সময় শেষ। আপনারা বিচার নিশ্চিত করেন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য ও যথাযথ নির্বাচনের পরিবেশের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত সংস্কার করুন।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে আমরা পুরাতন খেলায় অংশগ্রহণ করতে আসি নাই, আমরা পুরাতন খেলার নিয়ম পরিবর্তন করে দিতে এসেছি। সুতরাং আপনারা নিয়ম পরিবর্তন করে আমাদের সামনে উপস্থাপন করুন।
আপনারা খেলার জন্য কি কি নতুন নিয়ম এনেছেন। যাতে করে আমরা নতুন নিয়মে যাতে করে সবাই নতুন খেলায় অংশ নিতে পারে।
দেশ গড়তে জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা। ৮ম দিনে মেহেরপুরের গাংনী সদর ও মুজিবনগরে পদযাত্রা ও পথসভা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।
এসময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণ অঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক অঢাডভোকেট সাকিল আহামাদ, ছাড়াও নুসরাত তাবাস্সুম, ডাক্তার তাসনিম জারাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।