নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীর মনোহরদী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাররদিয়া গ্রামে মহসিন ভূঁইয়া গংদের ৭৬ শতাংশ জমি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সোহেল, আয়ুব ও খোকাসহ একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, মনোহরদী পৌরসভার হাররদিয়া মৌজার ২২ নম্বর খতিয়ানের সিএস ও এসএ ৬৪৭ এবং আরএস ১৩৫৭ দাগভুক্ত ৭৬ শতাংশ জমি ১৯৩৮ সালে আয়মন নেছার নাম্নীর কাছ থেকে সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে মরহুম আয়েত আলী প্রধান তার একমাত্র ছেলে মরহুম আব্দুছ ছামাদের নামে ক্রয় করেন। এরপর এসএ রেকর্ডে জমিটি মরহুম আবদুছ ছামাদের নামে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তিনি জীবদ্দশায় জমিটি ভোগদখল করেন। তার মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে মহসিনসহ ১৩ সন্তান জমিটির মালিকানা লাভ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন।
মরহুম আবদুছ ছামাদের ছেলে মহসিন ভূঁইয়া ও অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান জানান, জমির খাজনা পরিশোধ করতে গিয়ে তারা জানতে পারেন, আরএস রেকর্ডে ভুলবশত ৭৬ শতাংশ জমির মধ্যে ৬৪ শতাংশ মরহুম আব্দুছ ছামাদের পরিবর্তে আব্দুল বাতেন ও আবদুর রশীদের নামে রেকর্ড হয়েছে।
এ রেকর্ড সংশোধনের দাবিতে মহসিন ভূঁইয়া বাদী হয়ে ২০১২ সালে নরসিংদীর সিনিয়র জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা (নং-৪৮/২০১২) দায়ের করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দেওয়ানি আপিল (নং-১৮/২০২৪) দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে এবং আগামী ১৮ আগস্ট ২০২৬ পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।
মহসিন ভূঁইয়া ও তার ভাইদের অভিযোগ—
জমির রেকর্ড সংশোধন মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার সাওড়া গ্রামের আব্দুল বাতেনের ছেলে সোহেল মিয়া, তার বোনজামাতা আইয়ুব এবং মনোহরদী পৌরসভার হাররদিয়া গ্রামের খোকাসহ একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ
ওই জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বিএনপির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করছেন এবং জমি ছেড়ে দিতে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংশ্লিষ্ট জমিটি দীর্ঘদিন ধরে মরহুম আব্দুছ ছামাদের পরিবার ভোগদখল করে আসছেন এবং চাষাবাদ করেন। তারা আরও জানান, সম্প্রতি একটি পক্ষ ওই জমি দখলের চেষ্টা করছে । বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত পক্ষ উপস্থিত হননি।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ এবং বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী পরিবার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব দোলন বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনো কিছু জানা নেই।”
অভিযোগের বিষয়ে সোহেল মিয়া ও আইয়ুবের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।