আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম:
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে কুড়িগ্রামের কয়েকটি গ্রামে আজ রোববার (৩০ মার্চ) ঈদুল ফিতরের জামাত অনিুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ৫টি উপজেলার ৫টি গ্রামে প্রায় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ঈদের নামাজ আদায় করেন।
এদিন সকাল ৯টায় জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকের ছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা ও ছিট পাইকের ছড়া গ্রামের মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করে। এ ছাড়া ঈদের নামাজ আদায় করেন ফুলবাড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়নের মাঝিটারী, রাজিবপুর উপজেলার করাতিপাড়া মদিনাতুল উলুম মডেল মাদ্রাসা মাঠ, চিলমারী উপজেলার অস্টমীরচর ইউনিয়নের হাজিপাড়া দারুসুন্নাহ মাদ্রাসা ও ইতিম খানা ঈদগা মাঠ এবং রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া গ্রামে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ করেন।
ভূরুঙ্গামারীর পাইকডাঙ্গা গ্রামে অনুষ্ঠিত ঈদের নামাজের ঈমাম সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা চাঁদ দেখে সিয়াম শুরু করি এবং চাঁদ দেখে সিয়াম শেষ করে ঈদ পালন করে থাকি। পৃথিবীর যে কোনো যায়গায় চাঁদ উঠলেই হলো। দুটি নিয়ম চালু আছে চাঁদ দেখা অথবা চাঁদ ওঠার খবর শোনা। আমরা চাঁদ ওঠার সম্পর্কের সঙ্গে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছি।
রজিপুর করাতিপাড়া মদিনাতুল উলুম মডেল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত নামাজের ইমাম আব্দুল হাকিম জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও সুন্দর পরিবেশে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত ছিল।
মারধরে আহত সুজন মোহন্তকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে সঙ্গে রয়েছেন তার বন্ধু অমিত চন্দ্র পাল। তিনি জানান, অভিযুক্ত সাঈয়েদ আহমেদ বাবু এখন মারধর করার কথা অস্বীকার করছেন। তবে তিনি যে ফোনে গালিগালাজ করেছেন তার প্রমাণ আছে। এছাড়া, মারধরের পর তিনি বিষয়টির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। এখন তার গ্রুপের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘মারধরের ঘটনাটি হঠাৎ ঘটেছে, আমার করার কিছু ছিল না।’
কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। কুড়িগ্রাম জেলা প্রেসক্লাব ভাঙার ষড়যন্ত্রে সুজন লিপ্ত না হওয়ায় পেশিশক্তি দেখিয়েছেন অপসাংবাদিকরা।’ কুড়িগ্রামে টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সদস্য মো. বাদশা সৈকত বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
এ ব্যাপারে যোগগাযোগ করা হলে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও কালবেলার জেলা প্রতিনিধি সাঈয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, ‘সুজন ভালো ছেলে, আমি তাকে খুব পছন্দ করি। রোজার দিনে কাকতালীয়ভাবে ঘটনাটি ঘটেছে।’
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’