আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় চলতি বছর ৯০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাব থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩০১ জন শিশু রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণের পর হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ওই পরিকল্পনায় বিমান হামলা, কামান হামলাসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছিল।
তবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজায় প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন ভিডিও ও দৃশ্য বিশ্লেষণ করে গাজায় ইসরায়েলি হামলার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পাওয়া গেছে। এসব হামলার মধ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু, সৈকতসংলগ্ন একটি ক্যাফে এবং একটি জানাজার মিছিল লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুদ্ধবিরতির পরের কয়েকটি মাসেও গাজায় প্রাণহানি উল্লেখযোগ্য ছিল। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রতিটি মাসেই শতাধিক মানুষের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে প্রাণহানি ছিল সবচেয়ে বেশি। ওই মাসে ২১ শিশুসহ মোট ১৫২ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব মৃত্যুর জন্য ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে দায়ী করেছে। তবে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও সশস্ত্র যোদ্ধাদের আলাদা করে চিহ্নিত করা হয়নি।
জাতিসংঘ গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত মৃত্যুর হিসাবকে সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে। এ ছাড়া স্বাধীনভাবে পরিচালিত বিভিন্ন বিশ্লেষণেও এসব পরিসংখ্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্য পাওয়া গেছে বলে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে এসব তথ্য নিয়ে ভিন্নমত জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তাদের বক্তব্য, তালিকাভুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিই ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর যথেষ্ট ভিত্তি নেই।
আইডিএফের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং নিজেদের সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে তারা।
এদিকে চলতি বছরের শুরুতে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গাজা যুদ্ধে নিহত মানুষের সংখ্যা ৭০ হাজারের বেশি হতে পারে বলে এক ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন। নিহতদের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি সশস্ত্র যোদ্ধা থাকতে পারে বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে মাসভিত্তিক হিসাবেও গাজায় প্রাণহানি অব্যাহত থাকার চিত্র উঠে এসেছে। যুদ্ধবিরতির প্রথম দফার সময় থেকে অক্টোবরের শেষ নাগাদ ২৫১ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময় গাজায় ইসরায়েল প্রায় ২০০টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় হামাসের সদস্যসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধা নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।